চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা; ৬৬০ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি পণ্য আটকে থাকায় ইউরোচ্যামের গভীর উদ্বেগ

চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা; ৬৬০ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি পণ্য আটকে থাকায় ইউরোচ্যামের গভীর উদ্বেগ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:২৯

বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের স্থবিরতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যক্রম স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে যে, দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রবেশদ্বারখ্যাত এই বন্দরে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনছে। রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর এই সংকটের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অর্জিত আস্থাকে হুমকির মুখে ফেলছে। শনিবার এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউরোচ্যাম জানায়, দেশের ৯২ শতাংশের বেশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এই বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়, যা বর্তমানে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০টি রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার আনা-নেওয়া করা হলেও সাম্প্রতিক কর্মবিরতি ও অস্থিরতায় এই কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি বন্ধ। ইউরোচ্যামের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৬৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের রপ্তানি পণ্য বন্দরে আটকা পড়ে আছে। প্রায় ১৩ হাজার কনটেইনারে থাকা এসব পণ্য বন্দরের ইয়ার্ড, বেসরকারি অফ-ডক এবং বহির্নোঙরে অপেক্ষায় থাকা জাহাজগুলোতে আটকে থাকায় ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলো তাদের সরবরাহ সময়সূচী নিয়ে ক্রমেই শঙ্কিত হয়ে পড়ছে। রপ্তানিকারকরা সময়মতো পণ্য পাঠাতে ব্যর্থ হলে বাড়তি লজিস্টিক খরচ ও ক্রয়াদেশ বাতিলের মতো কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে পারেন।

এই সংকটের সুদূরপ্রসারী প্রভাব তুলে ধরে ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ জানিয়েছে যে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে ৪২ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ৮ লাখ ৩১ হাজারের বেশি রপ্তানি কনটেইনার পরিবহন করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে, যার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। এই খাতের ওপর নির্ভরশীল লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষায় বন্দরের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অবিলম্বে বিরোধ নিষ্পত্তি করার অনুরোধ জানিয়েছে।

ইউরোচ্যাম আরও মনে করে যে, জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ধরে রাখতে একটি স্থিতিশীল ও দক্ষ বন্দর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বাণিজ্য সহজীকরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।