প্যারিস টেক্সওয়ার্ল্ডে বাংলাদেশের বাজিমাত; ৮ মিলিয়ন ডলারের নিশ্চিত ক্রয়াদেশ পাওয়ায় বৈশ্বিক আস্থার প্রতিফলন

প্যারিস টেক্সওয়ার্ল্ডে বাংলাদেশের বাজিমাত; ৮ মিলিয়ন ডলারের নিশ্চিত ক্রয়াদেশ পাওয়ায় বৈশ্বিক আস্থার প্রতিফলন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৩৪

ইউরোপের ফ্যাশন রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টেক্সটাইল প্রদর্শনী ‘টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং স্প্রিং ২০২৬’-এ অংশ নিয়ে বড় ধরনের ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। গত ২ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক মেলায় বাংলাদেশি তৈরি পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের প্রতি বৈশ্বিক ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহের ফলে প্রায় ৮.০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের নিশ্চিত ও সম্ভাব্য কাজের অর্ডার পেয়েছে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যা ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সরাসরি তত্ত্বাবধানে অংশ নেওয়া ১৮টি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আরও ১১টি বাংলাদেশি কোম্পানি মেলায় সরাসরি উপস্থিত থেকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা সম্পন্ন করেছে। প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, উন্নত মান, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার কারণে বড় বড় সোর্সিং পেশাজীবীরা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এই সাফল্য কেবল রপ্তানি আয় বৃদ্ধি নয়, বরং বৈশ্বিক ফ্যাশন মানচিত্রে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের গ্রহণযোগ্যতা আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।

গত ২ ফেব্রুয়ারি মেলায় ‘বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন’ উদ্বোধনকালে ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে স্থায়ী প্রতিনিধি খন্দকার এম তালহা দেশের পোশাক শিল্পের দৃশ্যমানতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে এই ধরনের মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ চীন বা ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় আরও ব্যাপক হওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রদূতের মতে, ইউরোপের দ্রুত পরিবর্তনশীল ফ্যাশন ধারা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে টেক্সওয়ার্ল্ডের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

ভবিষ্যৎ সোর্সিং বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাষ্ট্রদূত তালহা দেশীয় স্টলগুলোর নকশা ও সাজসজ্জায় আরও পেশাদারিত্ব আনার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ-এর মতো শীর্ষ সংগঠনগুলোকে বাণিজ্য মেলায় থিম-ভিত্তিক ব্র্যান্ডিং জোরদারের আহ্বান জানান। উল্লেখ্য যে, প্যারিস দূতাবাস আগামী দিনগুলোতে ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণ ও বাজার বৈচিত্র্য আনতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ইপিবি-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। এই প্রদর্শনী প্রমাণ করেছে যে, বিশ্বজুড়ে পোশাক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশ এখনও একটি নির্ভরযোগ্য ও পছন্দের সোর্সিং গন্তব্য।