জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম কার্যদিবসেই দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। ডিএসই'তে সূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও পৌঁছেছে গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
রোববার লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২০০ দশমিক ৭২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬০০ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে। চলতি সময়ে এটি পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান। এর আগে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সূচক ছিল ৫ হাজার ৬২৭ দশমিক ৫৯ পয়েন্টে।
শুধু প্রধান সূচক নয়, বাজারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সূচকেও একই রকম ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা গেছে। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস বেড়েছে ৩০ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট। দিন শেষে সূচকটির অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২৭ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে। বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসই-৩০ একদিনেই ৮৬ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৪৫ দশমিক ১৩ পয়েন্টে।
ডিএসইতে মোট ৩৯৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৩৬৪টির দর বেড়েছে। দর কমেছে ২৬টির এবং ৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ প্রায় পুরো বাজারই ছিল ঊর্ধ্বমুখী।
লেনদেনের চিত্রও ছিল ব্যতিক্রমী। ডিএসইতে এ দিন শেয়ার ও ইউনিট মিলিয়ে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৭৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। এটি গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন। এর আগে ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বাজারে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪০০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
এদিকে, দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) একই ধরনের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সিএসই'তে রোববার মোট শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে সেখানে লেনদেনের পরিমাণ ছিল মাত্র ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৪৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২২০টির শেয়ার দর বেড়েছে। দর কমেছে ১৭টির এবং ১০টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
লেনদেন শেষে সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৪৮৪ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৫১৮ দশমিক ৮০ পয়েন্টে। আগের কার্যদিবসে এই সূচক বেড়েছিল ২৪১ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে টানা দরপতন আর অনিশ্চয়তার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ বাজার থেকে প্রায় সরে গিয়েছিলেন। অনেকে বড় লোকসানে পড়ে নতুন করে বিনিয়োগের সাহস পাচ্ছিলেন না। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার প্রত্যাশা এবং নতুন সরকারের প্রতি আস্থার প্রভাবেই বাজারে আবার আগ্রহ ফিরতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন তারা। এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা ধীরে ধীরে লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
Tag:
আরো পড়ুন: