বরগুনার আমতলীতে পবিত্র মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে উপজেলা শহরের বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। প্রায় এক থেকে দেড় মাস ধরে ধাপে ধাপে অধিকাংশ পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ ঘাটতি, মৌসুমি প্রভাব এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই দাম বাড়ছে।
তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, নিয়ন্ত্রণ সংস্থার নজরদারি এড়াতে পরিকল্পিত ভাবে অল্প অল্প করে দাম বাড়ানো হচ্ছে।
উপজেলা সদরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচামরিচ, ধনে পাতাসহ বিভিন্ন শাক-সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চাল, ডাল, চিনি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও খুচরা পর্যায়ে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এই মূল্যবৃদ্ধি চলতে থাকায় সামগ্রিক ভাবে মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে।
বিশেষ করে ব্রয়লার মুরগির দামে হঠাৎ উল্লম্ফন দেখা গেছে। কয়েকদিন আগেও কেজিপ্রতি ১৭০ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তবে ক্রেতাদের মতে, ৪/৫ দিনের ব্যবধানে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি অস্বাভাবিক।
চালের বাজারে মিনিকেট চাল ৬২ টাকা, নাজিরশাইল ৫৫ থেকে ৭৮ টাকা, পাইজাম ৪২ টাকা এবং মোটা স্বর্ণা ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, বোরো মৌসুমে নতুন ধান বাজারে এলে চালের দাম কিছুটা কমতে পারে।
সবজির বাজারেও একই চিত্র। করল্লা ১৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, ঢেঁড়শ ৫০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, বেগুন ৮০/৯০ টাকা এবং টমেটো ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ কমে গেছে। বিশেষ করে পেঁপে ও বেগুনের দাম তুলনামূলক বেশি বেড়েছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন পর পেঁয়াজের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৫০/৭৫ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে রসুনের দাম আবার বাড়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বিক্রেতাদের মতে, চায়না রসুনের দাম কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেড়েছে এবং সামনে আরও বাড়তে পারে।
ভোক্তারা বলছেন, রমজানকে সামনে রেখে বাজারে মূল্যবৃদ্ধি নতুন কিছু নয়। তবে এবার ধীরে ধীরে দাম বাড়ানোর প্রবণতা বেশি চোখে পড়ছে।
তুলি নামের এক নারী ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, 'বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মূল্যতালিকা যথাযথ ভাবে প্রদর্শন করেন না। ভ্রাম্যমাণ আদালত বা ভোক্তা অধিকার সংস্থার তদারকি শুরু হলে তারা বেশি দাম মুছে কম লিখে রাখেন, আর তদারকি শেষ হলে আবার আগের মতো বেশি দাম লিখে দেন। রমজান মাসে বাজার তদারকি জোরদার এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হলে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।'
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, 'পবিত্র রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।'
আরো পড়ুন: