ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানিতে বড় ধাক্কা

ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানিতে বড় ধাক্কা
ফাইল ছবি।

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ মার্চ, ২০২৬ ১৯:২৮

বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে। ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের মোট রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে।

সোমবার প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে এ চিত্র তুলে ধরেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। 

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি আয় ছিল ৩ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার।

চলতি অর্থবছরেও নিম্নমুখী প্রবণতা

চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬ এর জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে সামগ্রিক রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ কমে ৩১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৩২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে মূল্যস্ফীতি, ভোক্তা ব্যয় সংকোচন এবং অর্ডার কমে যাওয়ার প্রভাব ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে।

তৈরি পোশাক খাতে বড় চাপ

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাকখাতেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। ফেব্রুয়ারিতে এ খাতের রপ্তানি আয় ১৩ দশমিক ২১ শতাংশ কমে ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে পোশাক খাতের মোট রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে ২৫ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা আগের বছরে ছিল ২৬ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার।

সামনে কী ইঙ্গিত?

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক ক্রেতাদের সতর্ক ক্রয়নীতি এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে রপ্তানিতে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বছরের শেষ প্রান্তিকে নতুন অর্ডার বাড়লে পরিস্থিতি আংশিক ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পণ্যের বৈচিত্র্য, জ্বালানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।