দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিংহ ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। মঙ্গলবার ডিএসই'র প্রধান মূল্যসূচক ২০০ পয়েন্টের ওপরে কমে গেছে। সূচকের বড় পতন হলেও দুই বাজারেই বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। কিন্তু লেনদেনের সময় আধা ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই দরপতনের মাত্রা বেড়ে যায়। লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পতনের মাত্রা বাড়ে। এতে ব্যাপক দরপতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র ৩১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৪৯টির। আর ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে, ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৯৮টির দাম কমেছে এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া পাঁচটি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৭১টির দাম কমেছে এবং একটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮০টির এবং ছয়টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে একটির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩০টির দাম কমেছে এবং তিনটির দাম অপরিবর্তিত আছে।
সিংহ ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ডিএসই'র প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২০৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩২৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৮৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৫০ পয়েন্টে নেমে গেছে।
মূল্য সূচকের বড় পতন হলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮৮৫ কোটি ১২ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৭৯ কোটি ৯৫ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১০৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৫৫ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রবি’র শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ৮৯ লাখ টাকার। ৩০ কোটি ৩০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন।
এছাড়া, ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ব্র্যাক ব্যাংক, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, যমুনা ব্যাংক এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসই'র সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৪১৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫৩টির এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
আরো পড়ুন: