অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, 'সঠিক নেতৃত্ব ও সদিচ্ছা থাকলে স্বল্প সময়ের মধ্যেও বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব। দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে সরকার সেটির প্রমাণ দিয়েছে।'
মঙ্গলবার সকালে পতেঙ্গা বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, 'একটি রাষ্ট্রের সুফল শুধু কিছু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এমন অর্থনীতি বাংলাদেশে চলতে দেওয়া হবে না। পিছিয়ে পড়া মানুষকে কেন্দ্র করেই দেশের অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে।'
তিনি বলেন, 'ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি প্রথমে হতদরিদ্র পরিবারের জন্য শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দরিদ্র, নিম্নআয়ের মানুষ এবং পরে মধ্যবিত্তদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'এ কর্মসূচির আওতায় নারী প্রধান পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নারীদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছালে তা পরিবার পরিচালনা, সঞ্চয় ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।'
চট্টগ্রাম নগরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ হাজার ৫৭৫টি পরিবারের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের মাধ্যমে নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারের ব্যাংক হিসাবে প্রতি কিস্তিতে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ‘ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি)’ পদ্ধতির মাধ্যমে উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ডিজিটাল ভাবে সহায়তার অর্থ পাঠানো হবে। স্মার্ট প্রযুক্তিতে তৈরি এই কার্ড ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকারি সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ডাটাবেজ হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, দরিদ্র কৃষকদের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আরো পড়ুন: