৯৯.৯১ শতাংশ পোশাক কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ: বিজিএমইএ

৯৯.৯১ শতাংশ পোশাক কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ: বিজিএমইএ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ মার্চ, ২০২৬ ১৭:৪৪

ঈদের আগেই প্রায় সব পোশাক কারখানায় ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

বুধবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

‘আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে পোশাক শিল্পের শ্রমিক ভাই-বোনদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সর্বশেষ পরিস্থিতি’ নিয়ে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে বিজিএমইএ।

মাহমুদ হাসান বলেন, 'ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ কারখানা। অবশিষ্ট দুটি কারখানার বেতন প্রদান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঈদ বোনাস প্রদান সম্পন্ন করেছে ৯৯ দশমিক ৮১ শতাংশ কারখানা। অবশিষ্ট চারটি কারখানার ঈদ বোনাস প্রদান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশ কারখানা মার্চ মাসের আংশিক বেতন অগ্রিম প্রদান করেছে।'

তিনি বলেন, 'মহাসড়কে চাপ কমাতে এলাকাভিত্তিক ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। ১৭ মার্চ পর্যন্ত ৫০ শতাংশ কারখানায় ছুটি হয়েছে। বুধ ও বৃহস্পতিবারের মধ্যে বাকি কারখানাগুলো ছুটি দেবে।'

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, 'বিজিএমইএর সদস্যরা বরাবরই শ্রমিক ভাই-বোনদের প্রতি দায়বদ্ধ। আর তাই, ঋণের চাপ থাকা সত্ত্বেও এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ভাবে তহবিল সংগ্রহ করে উদ্যোক্তারা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিজিএমইএ'র তথ্য অনুযায়ী কিছু সংখ্যক কারখানায় বড় ধরনের আর্থিক সংকট ছিল। আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে মালিক, ব্যাংক এবং শ্রমিক ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সেই কারখানাগুলোর বেতন-ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করেছি। আজ অত্যন্ত স্বস্তির সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের জানামতে বিজিএমইএ'র তালিকাভুক্ত এমন কোনো কারখানা নেই, যেখানে শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন নিয়ে অমীমাংসিত কোনো সমস্যা রয়েছে।'

তিনি বলেন, 'আমরা অত্যন্ত গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি বর্তমান ব্যবসাবান্ধব ও শ্রমিকবান্ধব সরকারের বিশেষ নির্দেশনার কথা। সরকারের সময়োচিত হস্তক্ষেপে শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধের জন্য সহজ শর্তে বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদান এবং দ্রুততম সময়ে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড় করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো আমাদের উদ্যোক্তাদের তীব্র তারল্য সংকট লাঘবে এবং শিল্পের চাকা সচল রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।'

এ জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ধন্যবাদ জানান মাহমুদ হাসান খান।

তিনি বলেন, 'প্রতি বছর ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রায় আমরা সড়ক দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানির ঘটনা দেখি। আমরা পরিবহন চালকদের প্রতি উদাত্ত্ব আহ্বান জানাই, সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালান, যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন। সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ, - মহাসড়কে নজরদারি আরও জোরদার করা হোক, যাতে কোনো পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে।'

প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বর্তমান সময়টিতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি - এই তিনটি বড় চাপ একযোগে আমাদের শিল্পকে প্রভাবিত করছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আমাদের রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার হার ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমেছে এবং পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে, যার প্রভাব আমাদের মতো রপ্তানিনির্ভর শিল্পের ওপর সরাসরি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জও কম নয়। গত ৫ বছরে গ্যাসের দাম ২৮৬ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু নিরবিচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এখনও নিশ্চিত নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চ সুদহার, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং চলতি মূলধনের ঘাটতি।