মোবাইল-ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে কারসাজি ঠেকাতে যেসব পদক্ষেপ নিল সরকার

মোবাইল-ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে কারসাজি ঠেকাতে যেসব পদক্ষেপ নিল সরকার
ফাইল ছবি।

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:৫৫

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, 'মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে হ্যাকার ও প্রতারক চক্রের কারসাজি ঠেকাতে সরকার সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।'

সোমবার সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, 'মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বাংলাদেশে একটি জনপ্রিয় ও সহজ পরিশোধ ব্যবস্থা হিসেবে দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। এই আধুনিক পদ্ধতি প্রযুক্তিগত ভাবে নিরাপদ হলেও ব্যবহারগত কারণে বিভিন্ন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। গ্রাহকদের পাসওয়ার্ড শেয়ার করা, ডিভাইস হ্যাকিং এবং প্রতারকদের নতুন নতুন কৌশলের কারণে মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছে।'

তিনি বলেন, 'সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেমের নিরাপত্তা জোরদার ও প্রতারণা প্রতিরোধে সক্রিয় ভাবে কাজ করছে।'

প্রতারক চক্র দমনে গৃহীত প্রধান সাতটি ব্যবস্থা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রথমত- এক এনআইডির বিপরীতে একটি এমএফএস প্রোভাইডারের সঙ্গে একটি মাত্র মোবাইল হিসাব চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের মোবাইল নম্বর তার নিজস্ব এনআইডিতে নিবন্ধিত কি না তা যাচাই করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সহায়তায় একটি সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিটিআরসির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

দ্বিতীয়ত- গ্রাহকদের পিন নম্বর সুরক্ষা ও প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন করতে এসএমএস, ভয়েস মেসেজ, ইমেইল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর জন্য এমএফএস প্রোভাইডারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

তৃতীয়ত- এমএফএস এজেন্টদের কার্যক্রমে কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যেসব এজেন্টের মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন হয়; তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

চতুর্থত- গ্রাহকদের অভিযোগ কেস-টু-কেস ভিত্তিতে এমএফএস প্রোভাইডারদের নিজস্ব অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে। 

পঞ্চমত- অভিযোগের ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। 

ষষ্ঠত- এমএফএস প্রোভাইডারদের ঝুঁকি নিরূপণে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন বিভাগ নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রম চালাচ্ছে। 

সপ্তমত- সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য নিয়মিত ভাবে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-এ রিপোর্ট করা হচ্ছে এবং এর ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া অনলাইন ব্যাংকিং সেবায় নিরাপত্তা জোরদার করতে সব ব্যাংকে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (২এফএ) চালু রয়েছে; যা গ্রাহকের লেনদেনকে আরও সুরক্ষিত করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, 'এসব সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মোবাইল ফাইন্যান্স ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রতারণা কমিয়ে আনা এবং গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।'