দীর্ঘদিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর রাজধানীর বাজারে পোল্ট্রি, সোনালি ও দেশি মুরগির দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে গরু ও খাসির মাংসের দামে তেমন পরিবর্তন নেই। অন্যদিকে, প্রকারভেদে মাছের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর রামপুরা, আফতাবনগর ও ডিএনসিসি কৃষি মার্কেট ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
এক সপ্তাহ আগে সোনালি মুরগির কেজি ছিল ৪০০ থেকে ৪১০ টাকা, যা কমে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায়। পোল্ট্রি মুরগির দামও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় নেমেছে। দেশি মুরগির দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা কমে এখন ৭২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭০ টাকায়।
অন্যদিকে, গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,১৫০ থেকে ১,২০০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।
রামপুরার এক মুরগি বিক্রেতা আমির হোসেন বলেন, ঈদের আগে খামারে সরবরাহ সংকট থাকায় মুরগির দাম বেড়েছিল। বর্তমানে উৎপাদন বাড়ায় বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে দাম কমেছে। সামনে দাম আরও কমতে পারে বলেও জানান তিনি।
মুরগির পাশাপাশি সবজির বাজারেও স্বস্তি ফিরেছে। করলা ও পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে।
একজন সবজি বিক্রেতা জানান, মাঠ পর্যায়ে উৎপাদন বেশি থাকায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, যা দাম কমার প্রধান কারণ।
তবে মাছের বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে ২২০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। পাঙ্গাশ মাছ কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১ থেকে ১.২ কেজি ওজনের রুই মাছ ৩৪০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগেও ছিল প্রায় ৩০০ টাকা। বড় আকারের রুই মাছ ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া তেলাপিয়া, পাবদা, শোল ও টেংরাসহ প্রায় সব মাছের দামই কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে।
ক্রেতারা বলছেন, সবজি ও মুরগির দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি এলেও মাছের উচ্চমূল্যে তা অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
আরো পড়ুন: