৯ মাসে এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা

৯ মাসে এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৩০

আপডেট: ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৫১

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সময়ে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৯৮ হাজার কোটি টাকা। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অর্থবছরের তিন মাস বাকি থাকতেই এই ঘাটতি গত পুরো অর্থবছরের মোট ঘাটতিকে ছাড়িয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা।

তবে একটি ইতিবাচক দিক হলো, বড় অংকের ঘাটতি থাকলেও গত অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায়ে ১১.১৫% প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায়ের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা।

মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঘাটতি ছিল ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তা বেড়ে ২৬ হাজার কোটিরও বেশি হয়েছে। মার্চ মাসে এককভাবে ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকা।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। এই খাতে ১ লাখ ৩৯ হাজার ১১৮ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৮ হাজার ৫০১ কোটি টাকা, ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা।

ভ্যাট খাতে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা, যেখানে ঘাটতি ৩৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

অন্যদিকে কাস্টমস খাতে ১ লাখ ৩ হাজার ১৯৬ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮০ হাজার ২২৩ কোটি টাকা, ফলে ঘাটতি হয়েছে ২২ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা।

তবে তিনটি খাতেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে—আয়করে ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ, ভ্যাটে ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং কাস্টমসে ৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রাজস্ব আদায়ের এই বিশাল ঘাটতি সরকারের বাজেট বাস্তবায়নে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় নির্বাহ এবং সরকারি বিনিয়োগ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার ফলে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হতে হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াবে।