বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের তুলনায় তামাকপণ্য সস্তা

বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের তুলনায় তামাকপণ্য সস্তা
ছবি: বাসস।

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ মে, ২০২৬ ২০:২৮

বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের তুলনায় তামাকপণ্য সস্তা। এ জন্য তামাক কর কাঠামো কার্যকর ভাবে সংস্কারের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং বর্ধিত রাজস্ব আহরণ সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ, চিকিৎসকসহ বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বাজেট ২০২৬-২৭: জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও তামাক রাজস্ব বৃদ্ধি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন। গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা) যৌথ ভাবে এই সভার আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় বক্তারা সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা কমানো, সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রচলন এবং সবধরনের তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন।

তারা বলেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে শুধু সিগারেট খাত থেকে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় অর্জিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৪ লাখ অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এর রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর বলেন, 'নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের মধ্যে দামের পার্থক্য কম এবং প্রায় ৯০ শতাংশই এই দুই স্তরের ভোক্তা। স্তর দু’টিকে একত্র করে দাম ১০০ টাকা করা হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী সিগারেট ব্যবহারে বিশেষ ভাবে নিরুৎসাহিত হবে।'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, 'বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের তুলনায় তামাকপণ্য সস্তা, এটা জনস্বাস্থ্যের জন্য বিরাট হুমকি। কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে তামাকপণ্যের দাম জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে।'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, 'কর আহরণ সহজীকরণে সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতির প্রচলন অত্যন্ত কার্যকর একটি পদক্ষেপ।'

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী তামাকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে আসন্ন বাজেটে তামাকবিরোধীদের কর ও দাম সংক্রান্ত প্রস্তাব বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, 'তামাকমুক্ত প্রজন্ম গড়তে সব ধরনের তামাপণ্যের দাম ও কর বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

আলোচনা সভায় বিড়ি, জর্দা ও গুলের ক্ষেত্রেও মূল্য ও করহার সমন্বয়ের প্রস্তাব করা হয়। পাশাপাশি সকল তামাকপণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়।

আত্মা’র কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আত্মার কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন, প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের।