সকল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে জুলাই থেকে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে

সকল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে জুলাই থেকে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬ ১৮:০৯

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, 'আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল লেনদেনে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে।'

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (বিএসআইসি)’র উদ্বোধনী ফান্ড ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

গভর্নর বলেন, 'দেশে ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে নতুন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ যাত্রা শুরু করেছে।'

৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অংশগ্রহণে ৪২৫ কোটি টাকার মূলধন নিয়ে গঠিত এ তহবিল ব্যাংকগুলোর মুনাফার ১ শতাংশ থেকে তৈরি করা হয়েছে। এটি এককালীন তহবিল নয়; বরং ধারাবাহিকভাবে সিড, লেট সিড ও সিরিজ-এ পর্যায়ে বিনিয়োগ করা হবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর ও উৎপাদনশীল খাতের উদ্যোক্তারা মূলধন সহায়তা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

গভর্নর বলেন, 'ব্যাংকগুলোর ৪২৫ কোটি টাকার বিনিয়োগের পাশাপাশি ভেঞ্চার ক্যাপিটালখাতে বাংলাদেশ ব্যাংক অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন দেবে।'

অনুষ্ঠানে বিএসআইসি চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, 'শুধু প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপ নয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও (এসএমই) এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সুবিধার আওতায় আসবেন।'

বাংলা কিউআর হলো বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত একটি সর্বজনীন ও আন্তঃলেনদেনযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। একটি কিউআর কোড স্ক্যান করেই যেকোনো ব্যাংক অ্যাপ বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস যেমন- বিকাশ, নগদ ও রকেট ব্যবহার করে নিরাপদ ও ক্যাশলেস লেনদেন করা যাবে।

ছোট দোকান থেকে বড় শপিংমল সব জায়গায় একই বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন করা যাবে। ফলে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাংক বা এমএফএস ব্যবহারকারীরাও সহজে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। স্মার্টফোনে কিউআর স্ক্যান করেই দ্রুত পেমেন্ট সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

বিক্রেতাকে শুধু একটি কিউআর কোড ব্যবহার করতে হবে। ক্রেতা স্ক্যান করে পেমেন্ট করলেই স্বয়ংক্রিয় ভাবে নোটিফিকেশন যাবে। এতে প্রতিদিনের লেনদেনের হিসাবও স্বয়ংক্রিয় ভাবে সংরক্ষিত থাকবে।

যেকোনো ব্যাংকে সেভিংস, কারেন্ট বা এসএনডি হিসাব থাকলে বাংলা কিউআর কোড নেওয়া যাবে। এ জন্য ব্যক্তির নামে ব্যাংক হিসাব ও একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকতে হবে। নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দিলে ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে কিউআর কোড প্রস্তুত হবে। পরে এসএমএস বা ইমেইলের মাধ্যমে গ্রাহককে জানানো হবে।

মাসিক লেনদেন ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে এনআইডির ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে। মাসিক লেনদেন ১০ লাখ টাকার বেশি হলে এনআইডি, ছবি, টিন সার্টিফিকেট ও টিন রিটার্ন স্লিপ জমা দিতে হবে।