বাংলাদেশ সফররত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্ডা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো খাত নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানায় এডিবি।
সোমবার (২৫ মে) এডিবির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে মাসাতো কান্ডা বলেন, বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এ সময় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির খাত তৈরি এবং বহুমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। এতে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সফরকালে এডিবি ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি সই করেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সৃষ্ট চাপ মোকাবিলায় অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এডিবি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, এলএনজি, সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকিং খাতেও চাপ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করবে সংস্থাটি।
বৈঠকে ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি উদ্যোগের প্রস্তাবও তুলে ধরেন এডিবি প্রেসিডেন্ট। এর আওতায় আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে মোট ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার করে এই সহায়তা দেওয়া হতে পারে।
এডিবি বলছে, এই অর্থায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে সুষম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, মধ্যমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য বার্ষিক সার্বভৌম সহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে বর্তমান প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা বেড়ে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
এছাড়া বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২ মিলিয়ন ডলারের কারিগরি সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে এডিবি।
ঢাকা সফরে এডিবি প্রেসিডেন্ট অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ, চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিনিয়োগ পরিবেশ, পুঁজিবাজার ও যৌথ অর্থায়ন নিয়ে মতবিনিময় করেন তিনি।
আরো পড়ুন: