দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী

দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী
ফাইল ছবি।

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ জুন, ২০২৬ ১৬:৫৮

আপডেট: ৮ জুন, ২০২৬ ১৬:৫৮

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, 'বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ এ খাদ্য শেষ পর্যন্ত ময়লার ঝুঁড়িতে ফেলা হচ্ছে।'

সোমবার জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউনেপের ২০২৪ সালের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স প্রতিবেদনে তথ্য সংসদে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তবে প্রতিবেদনে যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে তা সামগ্রিক সংখ্যা।

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'ইউনেপের ২০২৪ সালের ‘ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশে খাদ্য অপচয়ের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে প্রতিবছর উৎপাদিত খাদ্যের একটি বড় অংশ অপচয়ের মাধ্যমে ময়লার ঝুঁড়িতে চলে যায়, যার পরিমাণ প্রায় ৩৫ লাখ টন।'

দেশে খাদ্যের অপচয় রোধকল্পে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে আপনার মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে? লিখিত জবাবে তিনি বলেন, 'ইউনেপের ২০২৪ সালের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স প্রতিবেদনে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, তবে প্রতিবেদনে যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে তা সামগ্রিক সংখ্যা।'

তিনি আরও বলেন, 'খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উৎস থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে খাদ্য গুদাম ও সাইলোতে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও খাতে এসব গুদাম ও সাইলো থেকে খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়।'

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'ওই ব্যবস্থাপনায় কিছু খাদ্যশস্য নষ্ট হয়। তবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ যেমন- নতুন আধুনিক সাইলো ও খাদ্য গুদাম নির্মাণ, সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ, পরিবহন সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সচেতনতা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য প্রচেষ্টার মাধ্যমে খাদ্যশস্যের অপচয় পর্যায়ক্রমে কমানো হচ্ছে।'

তিনি বলেন, '২০২৪-২৫ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৮৮৭ দশমিক ৩৪৭ মেট্রিক টন, যা মোট খাদ্যশস্যের মাত্র শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ। অন্যদিকে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৩২৯ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন, যা শতকরা হিসাবে শূন্য দশমিক ৩১৬ শতাংশ।'

তিনি আরও বলেন, 'দুই অর্থবছরের তথ্য তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ আগের অর্থবছরের তুলনায় কমেছে, যা সরকারের সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের ইতিবাচক ফলাফল নির্দেশ করে।'

প্রতিমন্ত্রী লিখিত প্রশ্নের উত্তরে বলেন, 'খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদতা নিশ্চিতকরণ এবং দেশে খাদ্যের অপচয় রোধকল্পে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের অপচয় ও ক্ষতিরোধে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নিম্নোক্ত নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।'