সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি ভারতের সঙ্গে: বাণিজ্যমন্ত্রী

সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি ভারতের সঙ্গে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ জুন, ২০২৬ ১৯:৫৬

আপডেট: ৮ জুন, ২০২৬ ২০:৫৬

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, 'গত পাঁচ বছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতের সঙ্গে।'

সোমবার চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য জসীম উদ্দিন আহমেদের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, 'ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই এই ঘাটতির পরিমাণ ৭ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া সার্কভূক্ত দেশসমূহের মধ্যে আফগানিস্তান, ভুটান এবং পাকিস্তানের সঙ্গেও বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।'

তিনি বলেন, 'আগের সরকারের ভুল নীতির কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মূল্যবৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতিও এতে ভূমিকা রেখেছে।'

তিনি আরও বলেন, 'জ্বালানি, খাদ্য ও শিল্প কাঁচামাল আমদানির উচ্চ ব্যয় এবং রপ্তানির তুলনায় ধীর প্রবৃদ্ধি বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।'

সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল-২০২০-২১ অর্থবছরে ১৬.২৪ বিলিয়ন ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছরে ২৮.১৩ বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৭.১৮ বিলিয়ন ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২১.৫০ বিলিয়ন ডলার, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৪.১৬ বিলিয়ন ডলার।

একই সময়ে দেশের রপ্তানি আয় ও আমদানির চিত্রও তুলে ধরেন মন্ত্রী। রপ্তানি আয়: ৪৫.৩৬, ৬০.৯৭, ৫৩.৯২, ৫১.১১ এবং ৫৫.১৯ বিলিয়ন ডলার (ক্রমশ পাঁচ অর্থবছর) আমদানি ব্যয়: ৬১.৬০, ৮৯.১০, ৭৮.২৯, ৭২.৬১ এবং ৭৯.৩৫ বিলিয়ন ডলার।

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং রপ্তানি বৃদ্ধি করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, '২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে। তবে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে আসে। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে প্রণোদনা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।'

মন্ত্রী বলেন, 'চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ, আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক খাতে রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। রপ্তানি বৈচিত্র্য আনতে ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট (ওডিওপি)’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার আওতায় ৬৪ জেলার মধ্যে ১৪টি পণ্য চিহ্নিত করা হয়েছে।'

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, 'মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে এফটিএ সইয়ের তৃতীয় দফা আলোচনা ২০২৬ সালের অগাস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।'