রংপুরে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন

রংপুরে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন
ছবি: বাসস।

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ জুন, ২০২৬ ২২:৩৮

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ রবি মৌসুমে রেকর্ড ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৬ টন পেঁয়াজ উৎপাদন করেছেন রংপুর কৃষি অঞ্চলের কৃষকরা। মশলাজাতীয় এই ফসল উৎপাদনে দেশকে ক্রমান্বয়ে আত্মনির্ভরশীল করার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তারা।

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ রবি মৌসুমে ১২ হাজার ১০৫ হেক্টর জমি থেকে উৎপাদিত ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৬ টন পেঁয়াজের পরিমাণটি ২০২৪-২৫ রবি মৌসুমের ১০ হাজার ২২৩ হেক্টর জমি থেকে উৎপাদিত ১ লাখ ১৯ হাজার ৮১১ টন পেঁয়াজের তুলনায় ২৩ হাজার ৮৫৫ টন বেশি।

এর আগে গত ২০২৩-২৪ রবি মৌসুমে কৃষকরা ১০ হাজার ৬ হেক্টর জমি থেকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৯১ টন এবং ২০২২-২০২৩ রবি মৌসুমে ৮ হাজার ৮৩৪ হেক্টর জমি থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ২৬৩ টন পেঁয়াজ উৎপাদন করেছিলেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কর্মকর্তারা জানান, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়ে দেশের চাহিদা মেটাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের ফলে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ছে।

এর আগে, ডিএই ২০২৫-২৬ রবি মৌসুমে এই অঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট এবং নীলফামারী- এই পাঁচটি জেলার জন্য ১১ হাজার ৯৩১ হেক্টর জমি থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৭২ টন পেঁয়াজ উৎপাদনের একটি রেকর্ড লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল।

ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও উচ্চমূল্য বিবেচনা করে, স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়ে এই অত্যাবশ্যকীয় মশলাজাত পণ্যের চাহিদা মেটাতে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলস্বরূপ, কৃষকরা সেপ্টেম্বরে স্বল্পমেয়াদি আমন ধান কাটার পর পরই তাদের জমিতে আগাম পেঁয়াজ চাষ শুরু করেন এবং নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে পেঁয়াজের চারা রোপণের পাশাপাশি আগাম পেঁয়াজ কাটা শুরু করেন। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পেঁয়াজের চারা রোপণ অব্যাহত ছিল।

রংপুর অঞ্চলের ডিএই-এর অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত কৃষকরা নির্ধারিত চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭৪ হেক্টর বা ১.৪৬ শতাংশ বেশি, অর্থাৎ ১২ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন।’

গত মাসে ফসল কাটা শেষ করার পর, উৎসাহী কৃষকরা ২০২৫-২৬ রবি মৌসুমে হেক্টর প্রতি ১১ দশমিক ৮৭ টনের চমৎকার গড় ফলন হারে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৬ টন পেঁয়াজ উৎপাদন করেছেন। স্থানীয় চাহিদা মেটাতে এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের লক্ষ্যে পেঁয়াজ উৎপাদন আরও বাড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), মশলা গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং অন্যান্য কৃষি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সঠিক শস্য বৈচিত্র্যকরণ নিশ্চিত করা এবং এই অঞ্চলের কৃষকদের আরও বেশি প্রশিক্ষণ ও সর্বশেষ প্রযুক্তি প্রদানের মাধ্যমে পেঁয়াজ উৎপাদন আরো বাড়ানোর উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।’

বাজার সূত্রে জানা গেছে, এই অঞ্চলের খুচরা বাজারে স্থানীয় উন্নতমানের পেঁয়াজের দাম এখন প্রতি কেজি ২৮ থেকে ৩৬ টাকার মধ্যে, যা এক মাস আগের দামের চেয়ে কিছুটা কম।

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আবদুল হাই বলেন, 'এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পেয়ে তারা খুশি।'

সদ্য সমাপ্ত রবি মৌসুমে বাম্পার ফলন অর্জনের লক্ষ্যে আরও বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষে উৎসাহ যোগাতে প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে উন্নতমানের পেঁয়াজের বীজ ও সার বিতরণের জন্য তারা সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।