বাজেটে পানি সম্পদ খাতে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ প্রস্তাব

বাজেটে পানি সম্পদ খাতে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬ ১৩:৪০

আপডেট: ১৮ জুন, ২০২৬ ২০:১৯

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জলবায়ু সহনশীলতা, খাদ্যনিরাপত্তা ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে পানিনিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নদী পুনরুদ্ধার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, খাল খনন এবং পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পকে সামনে রেখে পানি সম্পদ খাতে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে সরকার।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১০ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বরাদ্দের কথা জানান। এতে দেশের নদী, সেচব্যবস্থা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগের ইঙ্গিত মিলেছে।

সরকার প্রতিটি বিভাগে অন্তত একটি নদী অবৈধ দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ধলেশ্বরী, লৌহজং, আলাইকুড়ি, মোগড়া, সালতা, সুতাং, বাঁকখালী ও বড়নাইসহ আটটি নদীর দখল উচ্ছেদ ও স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে।

প্রযুক্তিনির্ভর পানি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর জন্য ‘ওয়াটার কোয়ালিটি ইনডেক্স (WQI)’ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ডিপ লার্নিংভিত্তিক ভূগর্ভস্থ পানির রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ ড্যাশবোর্ড ব্যবহারের মাধ্যমে পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ‘নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ শীর্ষক জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই ৬৮০ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের আওতায় ৩০৯ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ ও বন্যা প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণের পাশাপাশি ৪৮৪ কিলোমিটার নৌপথের নাব্যতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সরকারের অন্যতম মেগা প্রকল্প ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ এর মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানি ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে সেচ সুবিধা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আশা করা হচ্ছে।

তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগও বাজেটে গুরুত্ব পেয়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে এবং উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে এ প্রকল্পকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর পানি ব্যবস্থাপনা, নদী পুনরুদ্ধার এবং বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের সমন্বয়ে বাংলাদেশের পানি খাত আধুনিকায়নের দিকে এগোচ্ছে, যা জলবায়ু অভিযোজন ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।