এলডিসি উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত সুবিধা বন্ধ হলে দেশের ব্যবসার কী হবে?

এলডিসি উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত সুবিধা বন্ধ হলে দেশের ব্যবসার কী হবে?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ২০:০৮

বাংলাদেশ যখন উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে, তখন বিশ্ববাজারে ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা অনেক বেড়ে যাবে। এই নতুন পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশের ব্যবসার দক্ষতা বাড়ানো, নতুন নতুন পণ্য তৈরি করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, গরিব দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ আগের মতো সব সুবিধা পাবে না। তাই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হলে যেসব দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ভালো সুযোগ আছে, তাদের সঙ্গে দ্রুত চুক্তি করতে হবে। এই কাজে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরও বড় ভূমিকা নিতে হবে। বিশেষ করে আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বাংলাদেশি পণ্য পাঠানোর এবং বিনিয়োগ করার অনেক সুযোগ আছে।

তাসকীন আহমেদ আরও বলেন, আফ্রিকার দেশগুলোতে যৌথ চাষাবাদ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃষি খাতে ভালো ব্যবসা করা সম্ভব। তবে এর জন্য দুই দেশের মধ্যে সরাসরি টাকা লেনদেনের ব্যবস্থা সহজ করা দরকার।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ঢাকা চেম্বারের এই প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, আফ্রিকার মতো সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারের এই চেষ্টার সঙ্গে দেশের ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, আফ্রিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পাটজাত পণ্য, চামড়া, ওষুধ, ফল এবং সিরামিক পণ্যের বড় চাহিদা রয়েছে। দেশের ব্যবসায়ীদের এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। সেই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে আমাদের শুধু দু-একটি পণ্যের ওপর নির্ভর না করে আরও নতুন ধরনের পণ্য তৈরি করতে হবে এবং ব্যবসায়ীদের দক্ষতা বাড়াতে হবে।

এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুন।