ডলারের দাম বেড়ে ১২৬ টাকা ছাড়াল

ডলারের দাম বেড়ে ১২৬ টাকা ছাড়াল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:১৬

দেশের বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে মার্কিন ডলারের দাম। এর প্রভাবে আমদানি ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বর্তমানে আমদানি খাতে প্রতি ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সায়। অন্যদিকে খোলাবাজার ও ব্যাংকের নগদ লেনদেনে ডলারের দাম রয়েছে ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপও আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আন্তঃব্যাংক লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসের শুরু থেকেই ডলারের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মাসের শুরুতে প্রতিদিন ১৩ থেকে ১৫ পয়সা করে দাম বাড়লেও শেষ সপ্তাহে একবারে প্রায় ৫০ পয়সা পর্যন্ত বেড়েছে।

গত এক সপ্তাহে আমদানি খাতে প্রতি ডলারের দাম ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বেড়ে ১২৩ টাকা ৯০ পয়সায় উঠেছে। একই সময়ে খোলাবাজার ও নগদ লেনদেনেও ডলারের দাম বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, রপ্তানি আয় প্রত্যাশিত হারে না বাড়লেও আমদানি কার্যক্রম বেড়েছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বাড়ায় ডলারের দামেও প্রভাব পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বিনিময় হার নির্ধারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি হস্তক্ষেপ করে না। বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতেই ডলারের দাম নির্ধারিত হয়। তবে কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধে কারসাজির অভিযোগ এলে তা তদন্ত করা হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ডলারের দাম বৃদ্ধির পেছনে শুধু অভ্যন্তরীণ কারণ নয়, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, বাংলাদেশ খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে শিল্পের যন্ত্রপাতি পর্যন্ত অনেক কিছু আমদানি করে। তাই ডলারের দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, কয়েক পয়সা বৃদ্ধি সাধারণভাবে বড় মনে না হলেও হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেনের ক্ষেত্রে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য।

এখন সবার নজর, ডলারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কতদিন স্থায়ী হয় এবং এর প্রভাব দেশের বাজার ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা পড়ে।