নন-টেকনিক্যাল সিস্টেম লস কমানো এবং রাজস্ব আদায় সহজ করার লক্ষ্যে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) তাদের বিতরণ এলাকায় ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৫টি স্মার্ট প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার স্থাপন করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, স্মার্ট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও সাশ্রয় নিশ্চিত হচ্ছে, যা রাজস্ব বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
ডিপিডিসির উপ-মহাব্যবস্থাপক (এইচআর) মো. শামিমুল হক বাসসকে বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ডিপিডিসি সব গ্রাহককে স্মার্ট প্রিপেইড মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছ।’
তিনি বলেন, ‘সারাদেশে ডিপিডিসির প্রায় ১৯ লাখ ৯ হাজার ৪ জন গ্রাহক রয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৫টির বেশি স্মার্ট প্রিপেইড মিটার ইতোমধ্যেই স্থাপন করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর বিদ্যুতের অপব্যবহার রোধ এবং অতিরিক্ত সিস্টেম লস উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেয়েছে, অন্যদিকে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।’
২০১৮ সালে ডিপিডিসি স্মার্ট মিটারিং ব্যবস্থা চালু করে এবং প্রিপেইড মিটার ভেন্ডিং মেশিনের মাধ্যমে সেবা প্রদান শুরু করে। ২০২২ সালে ৮ লাখ ৫০ হাজার স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের একটি প্রকল্প হাতে নেয় প্রতিষ্ঠানটি।
ডিপিডিসি জানিয়েছে, গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। গ্রাহক সেবার মান উন্নয়নে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে রাজধানীর দক্ষিণাংশ এবং কিছু উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী এই প্রতিষ্ঠানটির অধীনে রয়েছে ৩৬টি নেটওয়ার্ক অপারেশন ও কাস্টমার সার্ভিস (এনওসিএস) অফিস, যার মধ্যে ২৮টি অফিসে স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম চলছে।
ডিপিডিসি সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোট এক হাজার ২৪৪ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে ৮২২ কোটি এবং বেসরকারি গ্রাহকদের কাছে ৪২২ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।
ডিপিডিসির এক কর্মকর্তা জানান, স্মার্ট প্রিপেইড মিটার বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহারে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মতে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অপ্রযুক্তিগত ক্ষতি শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। গ্রাহকরা সহজ ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং বাজেট ব্যবস্থাপনাও সহজ হয়।
স্মার্ট প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থায় বিল পরিশোধ, সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা পুনঃসংযোগ সংক্রান্ত কোনো ঝামেলা থাকে না। এতে ন্যূনতম চার্জ বা জামানতের প্রয়োজন হয় না এবং বিতর্কিত বিলের সম্ভাবনাও থাকে না। ব্যবহারকারীরা বিদ্যুৎ বিলের উপর ২ শতাংশ ছাড় পান। সিস্টেমটি অফ-পিক সময় ও ছুটির দিনে কম বা ঋণাত্মক ব্যালেন্সের সতর্কবার্তা প্রদান করে।
এই মিটারিং ব্যবস্থা জরুরি ক্রেডিট সুবিধা দেয় এবং অস্বাভাবিক ভোল্টেজ ওঠানামা প্রতিরোধে সহায়তা করে। এটি স্বয়ংক্রিয় ভাবে রেকর্ড সংরক্ষণ করে, যা ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করে তোলে।
মন্ত্রণালয় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সিস্টেম ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। এসব ক্ষতির একটি অংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের কারিগরি সমস্যার কারণে হলেও, ৫ থেকে ৭ শতাংশ ক্ষতি ঘটে গ্রাহক পর্যায়ে মিটার টেম্পারিং, অবৈধ সংযোগ ও অন্যান্য অনিয়মের কারণে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য এই প্রিপেইড মিটার ডিজাইন ও উন্নয়ন করেছে।
বাসস।
আরো পড়ুন: