বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দেওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করবে না আদানি পাওয়ার।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে আদানি পাওয়ার ৮৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে। চলতি মাসে আদানিকে ১০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে সরকার। কয়েক ধাপে এই বিল পরিশোধ করা হবে।
বিপিডিবির মুখপাত্র শামীম হাসান বলেন, আদানি ৪৯৬ মিলিয়ন ডলার বিল চেয়েছে। সেখান থেকে আংশিক বিল দেওয়া হবে। এ বিষয়ে চিঠি চালাচালি চলছে। আজকের ভেতরে বিলের একটি অংশ পরিশোধের সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে ৩১ অক্টোবর আদানি পাওয়ারের ভাইস প্রেসিডেন্ট অনিমেষ অনুরাধ স্বাক্ষরিত এক চিঠি পিডিবির কাছে পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কাছে ৪৯৬ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা) বকেয়া রয়েছে। এই টাকা ১০ নভেম্বরের মধ্যে পরিশোধ না হলে ১১ নভেম্বর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, সরবরাহ বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশ সরকারকে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ পরিশোধ করতে হবে।
গত বছরের ০৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ০৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকার জানিয়ে আসছে, বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন চুক্তি ও বিল পরিশোধের বিষয়গুলো তারা পুনর্বিবেচনা করবে।
এরই মধ্যে কয়লার মূল্য নিয়ে আদানি গ্রুপ ও পিডিবির মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। পিডিবির হিসাব অনুযায়ী, আদানি কেন্দ্রের কয়লার দাম ধরা হচ্ছে টনপ্রতি ৬৫ ডলার, কিন্তু আদানি তা ৮০ ডলার ধরে বিল দিচ্ছে। এ কারণে দু'পক্ষের হিসাবে টনপ্রতি ১৫-২০ ডলারের পার্থক্য থেকে যাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ২৩৪ মিলিয়ন ডলার বিলকে ‘বিরোধপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
সরকারের অবস্থান, আদানি অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে বিল আদায়ের চেষ্টা করছে। বিরোধ নিষ্পত্তি না করেই পুরো পাওনা দাবি করায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
আরো পড়ুন: