ইরানের কারখেহ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ

ইরানের কারখেহ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৮:৪১

ছয় দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখোমুখি ইরান। এর জেরে দেশটির অন্যতম বৃহৎ কারখেহ বাঁধে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম আইআরএনএ- এর বরাত দিয়ে আল আরাবিয়া জানিয়েছে, শনিবার থেকে কেন্দ্রটির উৎপাদন স্থগিত করা হয়।

কারখেহ বাঁধ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান আমির মাহমুদি জানান, জলাধারের পানির স্তর আশঙ্কাজনক ভাবে কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব ইউনিটকে উৎপাদন সার্কিট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের চাহিদা মেটাতে বাঁধের নিচের ভাল্ভ দিয়ে পানি ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি জানান, বাঁধের জলাধারে বর্তমানে মাত্র এক বিলিয়ন ঘন মিটার পানি রয়েছে এবং পানির উচ্চতা এখন ১৮০ মিটার। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ৪০ মিটার কম।

ইরানের বিদ্যুৎ খাত আগে থেকেই চাপে রয়েছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, খরা ও পানি সংকটের কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আগামী মাসগুলোতে দেশটিতে বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

উল্লেখ্য, কারখেহ বাঁধ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ মাটির বাঁধ এবং ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় বাঁধ। এটি দক্ষিণ-পশ্চিম খুজেস্তান প্রদেশের আন্দিমেশক শহর থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে কারখেহ নদীর ওপর নির্মিত।

দেশটির গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদী গড়ের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ কম হয়েছে, যার ফলে জলাধারগুলোতে পানির স্তর রেকর্ড পরিমাণে কমে গেছে। পানি সংকট মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ মেঘ বপন (ক্লাউড সিডিং) কার্যক্রম শুরু করেছে এবং পর্যায়ক্রমে পানি সরবরাহ সীমিত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

মূলত শুষ্ক আবহাওয়ার দেশ ইরান বছরের পর বছর ধরেই দীর্ঘমেয়াদী খরা ও তাপপ্রবাহের শিকার। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে।