ফেনীর সোনাগাজীতে ২২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পটি সোমবার একনেক সভায় উত্থাপন করা হয় এবং অনুমোদিত হয়।
১ হাজার ৮৮৮ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই উদ্যোগটি পরিচ্ছন্ন, টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে সরকারের বৃহত্তর উত্তরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে বাংলাদেশ আরেকটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে যাচ্ছে।
‘সোনাগাজী ২২০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ইজিসিবি) বাস্তবায়ন করবে। এর লক্ষ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা হ্রাস করা।
অর্থায়নে সরকারের পক্ষ থেকে ১৪৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, বিদেশি সহায়তা থেকে ১ হাজার ৬২৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং ইজিসিবির নিজস্ব তহবিল থেকে ১১৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত চলবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সৌর পার্কটি সোনাগাজী উপজেলার পূর্ব বড়ধলী মৌজায় ইজিসিবি কর্তৃক পূর্বে অধিগ্রহণ করা ৬৩৪ একর জমির উপর নির্মিত হবে। ২০১৭ সালে অধিগ্রহণকৃত ৯৯৯ দশমিক ৬৫ একরের মধ্যে ২৮৫ একর জমি ইতোমধ্যে ৭৫ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। অবশিষ্ট জমি নতুন ২২০ মেগাওয়াট প্ল্যান্টে কাজে লাগানো হবে, যা সোনাগাজীকে দেশের অন্যতম বৃহত্তম নবায়নযোগ্য জ্বালানি কেন্দ্রে পরিণত করবে।
চালু হলে কেন্দ্রটি পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) পরিচালিত মীরসরাই গ্রিড সাবস্টেশনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২২০ মেগাওয়াট পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের এই সংযোজন বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং গুণমান বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।
প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬০টি সৌর পিভি মডিউল, ২৬টি গ্রিড-সংযুক্ত ইনভার্টার, একটি ২৪০ এমভিএ সাবস্টেশন, চারটি ২৩০/৩৩ কেভি ট্রান্সফর্মার, ১৩.৩ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন লাইন, একটি আধুনিক কন্ট্রোল রুম ও পাঁচতলা ডরমিটরি ভবন। এছাড়া বাঁধ নির্মাণ, সিসি ব্লক সুরক্ষা কাজ, খাল খনন ও অভ্যন্তরীণ সড়কও অন্তর্ভুক্ত।
পরিকল্পনা কমিশন গত আগস্টে অনুষ্ঠিত পিইসি সভায় প্রকল্পটি পর্যালোচনা করে একনেক অনুমোদনের সুপারিশ করে। কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পটি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার ২০ শতাংশে উন্নীত করার জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। পাশাপাশি, ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টার প্ল্যান (আইইপিএমপি)-২০২৩ অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে ৩৮ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য সক্ষমতা অর্জনে অবদান রাখবে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিকল্পনা কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘সৌরভিত্তিক বিদ্যুৎ কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে, পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এবং অস্থির বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের উপর বাংলাদেশের নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে।’
তিনি বলেন, ‘পরিবেশগত সুবিধার বাইরেও, এই প্রকল্পটি জ্বালানি খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াবে এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করবে।’
পরিকল্পনা কমিশন তার সুপারিশে বলেছে, ‘সোনাগাজী ২২০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সরবরাহ উল্লেখযোগ্য ভাবে প্রসারিত করবে এবং বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে অবদান রাখবে। এটি নিরবচ্ছিন্ন, নির্ভরযোগ্য এবং মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং দেশের বৃহত্তর আর্থ সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে অবদান রাখবে।’
আরো পড়ুন: