টেকসই বিদ্যুতের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি

টেকসই বিদ্যুতের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি
প্রতিকী ছবি।

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৮:২২

আপডেট: ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২১:৫১

নবায়নযোগ্য জ্বালানির কার্যকর সংযুক্তি এবং মাল্টিপারপাস ব্যবহার নিশ্চিত করলে বাংলাদেশ টেকসই, কম-কার্বন ও রেজিলিয়েন্ট বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বক্তারা।

মঙ্গলবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত 'ন্যাশনাল এনার্জি রেজিলিয়েন্স থ্রু রিনিউএবল ইন্টিগ্রেশন: দ্য বাংলাদেশ পার্সপেক্টিভ' শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এমন আশা প্রকাশ করেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী রেজা। তিনি বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কার্যকর সংযুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কার্যকর সংযুক্তি সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থায় সৌর, বায়ু ও বায়োমাসভিত্তিক শক্তি যুক্ত হওয়ায় গ্রিডের সক্ষমতা বাড়ছে, পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমছে। দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিতরণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এনার্জি রেজিলিয়েন্সকে আরও শক্তিশালী করছে।'

তিনি আরও বলেন, 'জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন বৃদ্ধি অপরিহার্য। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণা বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে রিনিউএবল এনার্জি ইন্টিগ্রেশন আরও গতিশীল হচ্ছে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে শক্তি নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি রেজিলিয়েন্স নিশ্চিত করার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।'

বিদ্যুৎ সচিব ফারজানা মমতাজ বলেন, 'বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানি প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে শিল্প কারখানায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব ভাবে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। রুফটপ সোলারের ব্যবহার বাড়াতে নেট মিটারিং গাইডলাইন-২০২৫ হালনাগাদ করা হয়েছে, যেখানে পূর্বের ৭০ শতাংশ সীমা তুলে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত নিজস্ব চাহিদা পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বিদ্যুৎ বিভাগের নিরাপদ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে অভিন্ন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর প্রণয়ন করা হয়েছে, যার ফলে কর্মীদের নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী হবে।'

শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য মোখলেস উর রহমান বলেন, 'বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে সোলার এনার্জির অবদান ৫ শতাংশ হলেও ৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন প্রকল্পগুলো তা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়াবে।'

তিনি বলেন, 'বৃহৎ সোলার প্রকল্পে সীমিত জমি ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব এবং ধাপে ধাপে অবশিষ্ট জমি ব্যবহার করে আরও উৎপাদন যোগ হবে।'

সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য মো. মনজুর হোসেন বলেন, 'সোলার এনার্জিতে বিনিয়োগের আগে বাস্তব উৎপাদন ক্ষমতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিতে হবে, কারণ ৭৫ মেগাওয়াট প্রকল্পেও প্রকৃত উৎপাদন পিক সময়ে ৩০-৪০ মেগাওয়াটে সীমিত থাকে। আধুনিক উচ্চ কার্যক্ষম প্যানেল ব্যবহার করলে জমি কম লাগবে এবং মাল্টিপারপাস ল্যান্ড-ইউজ নিশ্চিত করা সম্ভব।'

এ সময় তিনি সমন্বিত পরিকল্পনার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার, পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য এম এ আকমল হোসেন আজাদ, কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য ড. কাইয়ুম আরা বেগম।