যাত্রা শুরু করলো দেশের প্রথম স্বয়ংক্রিয় পেট্রোলিয়াম ডিপো

যাত্রা শুরু করলো দেশের প্রথম স্বয়ংক্রিয় পেট্রোলিয়াম ডিপো

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২০:০৪

আপডেট: ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২০:১০

দেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পরিচালিত পেট্রোলিয়াম ডিপোর কার্যক্রম। বুধবার কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মগবাড়ি চৌমুহনী এলাকায় ডিপোটির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান। 

‘চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহন’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ডিপোটি সম্পূর্ণ অটোমেটেড ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে। জ্বালানি গ্রহণ থেকে বিতরণ- সব পর্যায়েই থাকবে প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয়তা। এতে মানবিক হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল ইসলাম খাঁন, বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও পরিচালন) ড. এ কে এম আজাদুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক কর্নেল মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ শ্যামল ও কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। 

সভাপতিত্ব করেন পদ্মা অয়েল কোম্পানি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান।

বিপিসি'র চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান বলেন, 'এটি কুমিল্লা ও দেশের জন্য আনন্দের দিন। দেশে এই প্রথম অটোমেটেড তেলের ডিপো চালু হলো। এখানে ট্যাংক ট্রাকে তেল লোডের সময় কোনো ধরনের কম-বেশির সুযোগ থাকবে না। কার্ড পাঞ্চের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ভাবে তেল সরবরাহ হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাঝামাঝি অবস্থানে ডিপোটি হওয়ায় পরিবহন ব্যয় ও সময় সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলে কর্মসংস্থান বাড়বে।

স্থানীয় ডিলাররা বলছেন, নতুন এই ডিপো কুমিল্লা অঞ্চলের জন্য বড় স্বস্তি। ডিলার তাজুল ইসলাম ও কামাল হোসেন বলেন, আগে চাঁদপুর বা চট্টগ্রাম থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তেল আনতে হতো। এখন সেই ভোগান্তি কমবে, সড়ক সমস্যা বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সহজ হবে।

ডিপোটির তত্ত্বাবধান করবে পদ্মা অয়েল কোম্পানি পিএলসি। বিপিসির বিপণন প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল পিএলসি আলাদা ভাবে তাদের ডিলারদের মধ্যে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ করবে। চট্টগ্রামের প্রধান স্থাপনা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আসবে এই ডিপোতে।

প্রায় ১৬ দশমিক ১৬৪ একর জায়গাজুড়ে স্থাপিত ডিপোটিতে ১৯ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন ডিজেল, ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পেট্রোল ও ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন অকটেন সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। এখান থেকে কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলার জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল গ্রহণের ফলে পরিবহন ধর্মঘট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে তেল চুরি ও অপচয়ের মতো অভিযোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।