এলপিজি সিলিন্ডারের দাম লাগামহীন

এলপিজি সিলিন্ডারের দাম লাগামহীন
ফাইল ছবি।

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:২৭

আপডেট: ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ২২:০৭

লাইনে সরবরাহ করা গ্যাসের বিকল্প হিসেবে লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বাসা-বাড়ি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করা হয়। প্রতি মাসেই আন্তর্জাতিক বাজারের দরের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বাজারে দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

তারই ধারাবাহিকতায় ডিসেম্বর মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য এক হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। কিন্তু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কোথাও সরকার নির্ধারিত এ মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার মিলছে না।

সরবরাহ ঘাটতির অযুহাতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সিলিন্ডারের দাম বেড়ে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায় উঠেছে। কোথাও কোথাও দাম আরও বেশি।

এমনকি কমিশনের চেয়ারম্যানও স্বীকার করেছেন, একক ভাবে বিইআরসির পক্ষে এই সংকট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

ভোক্তারা জানান, বাজারে পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা নিচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

গত বুধবারও ১২ কেজির এক সিলিন্ডার এলপিজি নির্ধারিত এক হাজার ২৫৩ টাকার বদলে এক হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়। গ্রাহকরা এটিকে প্রায় ‘স্বাভাবিক’ বলেই মেনে নিচ্ছেন। কারণ, বিইআরসি ডিসেম্বর মাসে ১২ কেজির এলপিজির দাম এক হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করলেও ওই মাসে কোথাও এক হাজার ৫৫০ টাকার নিচে এলপিজি পাওয়া যায়নি।

তবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। গত দুই দিনে খুচরা বাজারে এক হাজার ৮০০ টাকার নিচে এলপিজি কিনতে পারেননি কেউ। কোনো কোনো দোকানে দাম হাঁকা হয়েছে দুই হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত।

প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের দরের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশে পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানি তেল ও এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়। জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত হলেও এলপিজির খুচরা বাজার চলে পুরোপুরি নিজস্ব নিয়মে।

জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করে জ্বালানি বিভাগ, আর এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। তবে জ্বালানি তেল বাজারজাত করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা। বিপরীতে এলপিজির বাজার প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের দখলে।

সরকার ইস্টার্ন রিফাইনারির মাধ্যমে যে পরিমাণ এলপিজি বাজারজাত করে, তা মূলত জেলা পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি এলপিজির সরবরাহ বাড়ানো গেলে বাজারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হতো। সে ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াতে পারতেন না।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সাধারণত ওমান, কাতার, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এলপিজি আমদানি করে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এলপিজি পরিবহনকারী কয়েকটি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় পরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে কিছু কোম্পানি এলপিজি আমদানি করতে পারছে না, যা বাজারে ঘাটতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সংকট স্বল্পমেয়াদি নাকি দীর্ঘমেয়াদি- তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ আগেও ছিল। তবে তখন পার্থক্য এতটা বেশি ছিল না। এবারের দাম বৃদ্ধি অস্বাভাবিক।’ 

তিনি বলেন, ‘এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কম থাকায় এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জাহাজ সংকটও রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে অভিযান চলছে। শুক্রবারও ভোক্তা অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করেছে।’ 

তবে বিষয়টি একক ভাবে বিইআরসির পক্ষে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। সমস্যা সমাধানে বিইআরসির সঙ্গে বৈঠক করবেন জ্বালানি উপদেষ্টা।’

এলপিজি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক সমিতি লোয়াবের সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশিদ বলেন, ‘আমাদের মূল সমস্যা দুটি- একদিকে সোর্স থেকে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে জাহাজও মিলছে না। বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি আনার পাশাপাশি জাহাজ খোঁজার চেষ্টা চলছে।’

তাঁর আশা, চলতি মাসের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।