সয়াবিন তেল ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বড় ক্রয় অনুমোদন সরকারের

সয়াবিন তেল ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বড় ক্রয় অনুমোদন সরকারের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:০২

দেশের বাজারে ভোজ্যতেল ও কৃষি উপকরণের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এক কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল এবং ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির চলতি বছরের দ্বিতীয় সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন পায়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকার স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ঢাকার সোনারগাঁও সিডস ক্রাশিং মিলস লিমিটেড থেকে এক কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল সংগ্রহ করবে। এ জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যা প্রতি লিটারে প্রায় ১৮০ টাকা ৮৫ পয়সা। কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা এড়াতে স্থানীয় উৎস থেকে তেল সংগ্রহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জন্য সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৯১ কোটি ৪১ লাখ টাকা, যেখানে প্রতি টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯০ মার্কিন ডলার। কৃষি খাতে উৎপাদন ব্যাহত না করতে সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে সরকার।

সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দুটি অবকাঠামোসংক্রান্ত প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়। এর একটি হলো বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা’ প্রকল্পের আওতায় বাণিজ্যিক চালক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, যার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনকে। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

অন্য প্রস্তাবটি বরিশাল অঞ্চলের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত। পায়রা নদীর ওপর নলুয়া–বাহেরচর সেতু নির্মাণের কাজ চীনের চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও ওপেক ফান্ডের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে প্রায় ৮৯৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

সরকারি সূত্র বলছে, ভোজ্যতেল, সার ও অবকাঠামো খাতে এই ধরনের আগাম ক্রয় ও বিনিয়োগ দেশের সরবরাহ নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় সহায়ক হবে।