‘অতিরিক্ত মূল্যের’ বিদ্যুৎ সরবরাহ, বিলের বকেয়া ও নয়াদিল্লি-ঢাকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতির পরও বাংলাদেশে আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎ সরবরাহ বেড়েছে। বুধবার এ খবর দিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে অবনতি ঘটতে থাকে, যার প্রভাব পড়ে দুই দেশের বিদ্যুৎ কেনাবেচার বাণিজ্যেও।
অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত প্যানেলের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে আদানি যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে, তার দাম পড়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।
এর আগে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে বকেয়ার অর্থ না পেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুঁশিয়ারি আসে আদানির কাছ থেকে। পরবর্তী সময়ে বন্ধ না করলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দেয় ভারতীয় কোম্পানিটি। অন্যদিকে বাংলাদেশের তরফে ‘ধীরে ধীরে’ বকেয়া পরিশোধের খবর আসে।
এমন পরিস্থিতিতে আদানির পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়িয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেল।
দুই দেশের সরকারি নথির বরাতে রয়টার্স বলেছে, ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গোড্ডা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৫ কোটি কিলোওয়াট, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৮ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রয়টার্সকে বলেন, 'প্রাকৃতিক গ্যাসসহ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানির ঘাটতি মোকাবিলার একটা চ্যালেঞ্জ আছে। এছাড়া চলতি বছর বিদ্যুতের চাহিদা ৬ থেকে ৭ শতাংশ বাড়তে পারে। এসব বিষয় সামাল দিতে বিদ্যুৎ আমদানি প্রয়োজন।'
তিনি বলেন, 'গ্যাসের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে এ বছর দেশীয় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ কয়লা আমদানি বাড়াবে।'
বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২৫ সালে কয়লা আমদানি ৩৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১ কোটি ৭৩ লাখ ৪ হাজার টনে পৌঁছেছে।
শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন দ্রুত কমে যাওয়া এবং এলএনজির সঞ্চালন ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা থাকায় বাংলাদেশ গ্যাস সংকটে পড়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন গেল বছর রেকর্ড পরিমাণে কমে দাঁড়ায় ৪২ দশমিক ৬ শতাংশে। কিন্তু ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এক দশকে মোট বিদ্যুতের দুই-তৃতীয়াংশই আসত গ্যাস থেকে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, আদানি পাওয়ার মূলত এই ঘাটতি পূরণ করছে। তারা ২০২৫ সালে বাংলাদেশে রেকর্ড ৮৬৩ কোটি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। একই সময়ে ভারতের অন্যান্য কোম্পানি থেকে আমদানি সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ লাখ ৯২ হাজার কিলোওয়াট।
বাংলাদেশের পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির প্রথম ২৭ দিনে মোট বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রায় ১০ শতাংশ এসেছে আদানির কাছ থেকে।
বাংলাদেশের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলেন, 'সংকটের কারণে বাংলাদেশকে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যবহার করতে হচ্ছে। আর তেলভিত্তিক বিদ্যুতের চেয়ে আদানির বিদ্যুৎ এখনও সস্তা।'
২০২৩ সালের শুরুতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে আদানি।
Tag:
আরো পড়ুন: