শীতকাল চললেও ঢাকার দোহার উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার পৌরসভার বিভিন্ন এলাকাসহ বিলাসপুর ইউনিয়ন, কুসুমহাটি, মাহমুদপুর, মুকসুদপুর, নারিশা, নয়াবাড়ী, রাইপাড়া, সুতারপাড়া ইউনিয়নে নিয়মিত বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এতে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, দিনে ও রাতে অনির্দিষ্ট সময় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো কয়েক মিনিট, আবার কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শীতের সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
মাহমুদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন বলেন, 'এলাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে। খুব সমস্যার মধ্যে আছি।'
একাধিক শিক্ষার্থীরা জানান, পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। ঠিকমতো বিদ্যুৎ থাকে না বলে বাড়িতে পড়াশোনা ভালো ভাবে হচ্ছে না।
রাইপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও পালামগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী সঞ্জীব বলেন, 'শীতকাল হওয়ায় ভেবেছিলাম বিদ্যুতের সমস্যা কম থাকবে। কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই বিদ্যুৎ যায়। সন্ধ্যার পর আইপিএস-ই ভরসা। আর নয়তো অন্ধকারেই দোকান চালাতে হয়।'
নারিশা ইউনিয়নের এক ব্যবসায়ী বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানে ক্রেতা কমে যাচ্ছে। ফ্রিজ ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
জয়পাড়া এলাকার ব্যবসায়ী হারুনুর রশীদ বলেন, 'বিদ্যুতের এমন যাওয়া-আসায় অফিসের কম্পিউটারগুলো বার বার অন-অফ করতে হচ্ছে। এতে করে কাজ যেমন ব্যাহত হচ্ছে পাশাপাশি কম্পিউটারের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। পড়তে হচ্ছে আর্থিক সংকটে।'
দোহার পৌরসভার কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় আগে ভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগও পাওয়া যাচ্ছে না।
এলাকাবাসীর দাবি, শীতকালেই যদি এমন পরিস্থিতি হয়, তাহলে গ্রীষ্মকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
শীতকালেও এমন বিদ্যুৎ বিভ্রান্তি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে দোহার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. বাদল মিয়া বলেন, 'জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবারহ কম থাকায় এমনটা হচ্ছে।'
Tag:
আরো পড়ুন: