ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ভোক্তাপর্যায়ে লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য বেড়েছে। প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৩০৬ টাকা থেকে ৫০ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন মূল্য নির্ধারণ করে। যা আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হবে।
এলপিজির পাশাপাশি অটোগ্যাসের দামও নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি মাসের জন্য প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা ১৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, 'ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম এক হাজার ৩০৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ০৪ জানুয়ারি এলপিজির দাম সর্বশেষ সমন্বয় করা হয়েছিল। সে সময় ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়।'
এর আগে গত ০৪ জানুয়ারি মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া অটোগ্যাসের দাম দুই টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বাংলাদেশে লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি মাসে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারণ করে। বিইআরসি সাধারণত সৌদি আরামকোর প্রোপেন ও বিউটেনের দামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই দাম সমন্বয় করে।
বিইআরসি প্রতি মাসেই এলপিজির যে দাম নির্ধারণ করে দেয়, বাজারে সেই দামে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। বাস্তবে অনেক এলাকায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে বা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই বাধ্য হয়ে বেশি দামে এলপিজি কিনছেন। এর ফলে সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ী উভয়ের মধ্যেই অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বেশি দামে এলপিজি কেনার ফলে ভোক্তার খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
বাজারে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের এমন কৃত্রিম সংকটের জন্য ব্যবসায়ীরা জাহাজের সমস্যার কারণে আমদানি কমে যাওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছু যানবাহন বা সরবরাহকারী কার্যক্রম কমে যাওয়া এবং ব্যাংক/এলসির জটিলতা ইত্যাদি কারণকে সামনে আনছেন।
কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানসহ নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়াও, বাজার স্থিতিশীল করতে এবং সরবরাহ সংকট নিয়ন্ত্রণে সরকার সরাসরি এলপিজি আমদানি করার প্রস্তাবও দিয়েছে।
Tag:
আরো পড়ুন: