বিদ্যুৎ-জ্বালানিখাতে নতুন রোডম্যাপ: ১০০ দিনের পরিকল্পনায় যা থাকছে

বিদ্যুৎ-জ্বালানিখাতে নতুন রোডম্যাপ: ১০০ দিনের পরিকল্পনায় যা থাকছে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:৪০

আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:৪৯

বাংলাদেশের জ্বালানিখাত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বাংলাদেশ গত এক দশকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি করলেও জ্বালানি সরবরাহ, আমদানি নির্ভরতা এবং ব্যয় বৃদ্ধির মতো নানা চ্যালেঞ্জ এখনো বিদ্যমান।

বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ প্রাকৃতিক গ্যাসনির্ভর হলেও দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ধীরে ধীরে কমে আসছে। ফলে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের প্রথম দিন ছিল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি)। প্রথম দিনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে রমজান, গ্রীষ্ম এবং সেচ সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন। 

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকেও একই নির্দেশনা দেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এছাড়াও, জ্বালানি খাতে ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা (কর্মসূচি) গ্রহণের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। সেই সাথে আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে কাজ করতে সবাইকে আহ্বান জানান।

জ্বালানিখাতের ১০০ দিনের কর্মসূচিতে যা থাকছে-

দেশের জ্বালানিখাতের উন্নয়নে নেয়া ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি; অন্তত ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা; সাতটি অনুসন্ধান কূপ, সাতটি উন্নয়ন কূপ এবং দুটি কূপের ওয়ার্কওভার প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পনা কমিশনের প্রেরণ; পিএসসির আওতায় সমুদ্রে তেল, গ্যাস অনুসন্ধানে ২০২৬ চূড়ান্তকরণ; গ্যাস অনুসন্ধানে একটি রিগ ক্রয়ের দরপত্র উন্মুক্তকরণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা; তেল, গ্যাস অনুসন্ধানে সাইসমিক সার্ভে পরিচালনা করা; এলএনজি অবকাঠামো স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ, যার মধ্যে ভাসমান এবং স্থলভাগের এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ; গ্যাসলাইন সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভোলার গ্যাস গ্রিডে যুক্ত করতে বরিশাল-আমিনবাজার-খুলনা পাইপলাইন স্থাপনের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই; মহেশখালী-বাখরাবাদ গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের লক্ষ্যে জিটুজি কার্যক্রম পরিচালনা; সিস্টেম লস কমিয়ে আনতে উদ্যোগ গ্রহণ, স্মার্ট মিটার স্থাপন, বিপিসিকে অটোমেশন এবং ডিজিটাইলেশন কার্যক্রম বাস্তাবায়ন; সরকারি ব্যবস্থাপনায় এলপিজি আমদানি তরান্বিত করা; এসপিএমের অপারেশনাল কার্যক্রম বাস্তবায়নে ঠিকাদার নিয়োগ চূড়ান্তকরণ; জ্বালানি তেল ক্রয়ে জিটুজি প্রাইসিং মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অটোমেশন কার্যক্রম চালু করা; ইআরএলের কার্যক্রম গতিশীল ও বাস্তবায়নে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, পিএমসি নিয়োগের বিষয় চূড়ান্তকরণ; এসপিএম প্রকল্পের কাছে পাম্পিং স্টেশন ও ট্যাংক নির্মাণে ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পাদন, চট্টগ্রামে এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনে প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি ও এলপিজি কাঠামো উন্নয়নের জন্য সমঝোতা স্মারক সই, মাতারবাড়ী কক্সবাজার এলাকায় এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি, খনিজ অনুসন্ধানের লক্ষ্যে জরিপ ও ভূ-তাত্ত্বিক মানচিত্রায়ন- সংক্রান্ত সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ, ২০০ কিলোমিটার ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ, কয়লা খনির উন্নয়ন. কয়লা সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সম্প্রসারণে কারিগরি আর্থিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুমোদন বিষয় কার্যক্রম, বিভিন্ন নদী ও সমুদ্রসৈকতে হেভি মিনারেল এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদ প্রাপ্তির সম্ভাব্যতা যাচাই, অবৈধ খনিজ সম্পদ আহরণ বন্ধ করতে উদ্যোগ গ্রহণ, বিকল্প জ্বালানি প্রাপ্যতা এবং বাণিজ্যিক উপযোগিতা নির্ধারণের গবেষণার সম্ভাব্যতা যাচাই। 

এছাড়া, পলিসি প্রণয়ন ও হালনাগাদকরণ বিষয় পর্যালোচনা; বিজনেস প্ল্যান প্রণয়ন, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড কোম্পানিকে তিনটি পৃথক কোম্পানিতে বিভক্ত করার জন্য সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, বিপিসির আওতায় আটটি কোম্পানিকে পাঁচটি কোম্পানিতে পুনঃবিন্যাসকরণ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা, ইনজাউচ প্রশিক্ষণ প্রদানের বিষয় জোরদার, কর্মশালা, সেমিনার বৃদ্ধি, গবেষণা ও পরীক্ষাগার সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রতিদিনের কাজে অটোমেশন চালু করা।

১০০ দিনের এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করা, আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ভিত্তি তৈরি করতে চায়। দেশীয় সম্পদ অনুসন্ধান, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সংস্কারের সমন্বয়ই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।