বাংলাদেশ সরকার ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ব্লুমবার্গ। উচ্চ বিদ্যুৎ মূল্যের কারণে প্রতি বছর শত শত মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় বহনের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত বিবেচনায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।
মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার বিদ্যুৎখাতে ব্যয় কমানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং আদানি চুক্তি পুনরায় আলোচনার বিষয়টি তাদের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত উদ্যোগগুলোর একটি।
কেন আলোচনার প্রয়োজন?
সরকার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আদানি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত আমদানি করা কয়লার উচ্চমূল্য সরাসরি বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত দামে বিদ্যুৎ কিনতে গিয়ে বড় আর্থিক চাপ বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
একটি সূত্র জানায়, নতুন সরকারের প্রধান এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের দাম পুনঃনির্ধারণ নিয়ে আলোচনা শুরু করা। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক ভাবে আদানি কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়নি।
নীরবতা দুই পক্ষেই
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর চেয়ারম্যান রেজাউল করিম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে আদানি পাওয়ারও জানিয়েছে, পুনঃআলোচনা নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি।
চুক্তির পটভূমি
২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে বিপিডিবি ও আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেডের মধ্যে ২৫ বছরের জন্য ১,৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির আওতায় ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গড্ডায় নির্মিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত শত ভাগ বিদ্যুৎ বাংলাদেশ কিনবে। কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ আমদানি করা কয়লা দিয়ে পরিচালিত হয় এবং ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে।
মূল্য নিয়ে বিতর্ক
গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত সরকারি এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আদানি থেকে কেনা বিদ্যুতের বর্তমান মূল্য সম্ভাব্য ন্যায্যমূল্যের তুলনায় অন্তত ৫০ শতাংশ বেশি। এতে বিদ্যুৎখাতে ভর্তুকির চাপ আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক পুনর্গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ, হিন্দুস্তান টাইমস।
Tag:
আরো পড়ুন: