মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি আবার শুরু হওয়ায় জ্বালানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কাতার থেকে ছেড়ে আসা একটি এলএনজি ট্যাংকার আগামী ১৪ মার্চ বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘লেব্রেথাহ’ নামের এলএনজি বহনকারী জাহাজটি বর্তমানে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রাপথে রয়েছে। জাহাজটি শুক্রবার কাতারের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র রাস লাফান টার্মিনাল থেকে যাত্রা শুরু করে। জাহাজটির গভীর ড্রাফট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এটি পূর্ণ সক্ষমতায় এলএনজি বোঝাই করে যাত্রা করেছে।
এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ‘আল গাশামিয়া’ নামের আরেকটি এলএনজি ট্যাংকারও একই টার্মিনাল থেকে কার্গো গ্রহণ করেছে। তবে জাহাজটি বর্তমানে পারস্য উপসাগরে অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুকূল হলে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে বলে জানা গেছে।
তবে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে কার্যত অচল হয়ে আছে। জ্বালানি ও শিপিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ‘লেব্রেথাহ’ জাহাজটিকে সাময়িক ভাসমান সংরক্ষণাগার হিসেবে ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে।
কাতারের এলএনজি টার্মিনালে সাময়িক উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পেছনে ইরানের একটি ড্রোন হামলার ঘটনাকে দায়ী করা হচ্ছে। এই হামলার পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
বাংলাদেশের মতো দেশ, যেগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহের জন্য আমদানিকৃত এলএনজির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তাদের জন্য কাতার থেকে রপ্তানি পুনরায় শুরু হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ভঙ্গুরতাকেও সামনে এনে দিয়েছে।
এ বিষয়ে কাতারএনার্জির একজন মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও জাহাজগুলোর গন্তব্য বা সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানাগুলোর জন্য সময়মতো এলএনজি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের বিলম্ব হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিপিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, ট্যাংকারটির যাত্রা শুরু হওয়া ইতিবাচক একটি ইঙ্গিত হলেও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
আরো পড়ুন: