জ্বালানির বিষয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করলেন প্রতিমন্ত্রী

জ্বালানির বিষয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করলেন প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ মার্চ, ২০২৬ ১৪:৩৩

দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, 'জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে অতীতেও কোনো সংকট ছিল না, এখনো নেই। ফলে আপাতত দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্তও নেই। রমজান ও ঈদকে নির্বিঘ্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।'

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দেশের জ্বালানি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে অতীতেও কোনো সংকট ছিল না, এখনো নেই। রমজান ও ঈদকে নির্বিঘ্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে পেট্রোল পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট যানবাহনের দীর্ঘ লাইন মূলত মানুষের উদ্বেগ ও আতঙ্কের কারণেই তৈরি হয়েছে।'

তিনি বলেন, 'পেট্রোল পাম্পে যে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে, তা মূলত মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির। এই ধরনের যানবাহনের প্রধান জ্বালানি হচ্ছে অকটেন ও পেট্রোল। অথচ এই দুই ধরনের জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই।'

তিনি আরও বলেন, 'পেট্রোল প্রায় পুরোটাই বাংলাদেশে পরিশোধিত হয়। অকটেনের সিংহ ভাগও আমরা দেশে পরিশোধন করে পাই, কিছু অংশ আমদানি করতে হয়। মূলত ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের ক্ষেত্রে আমাদের আমদানির ওপর নির্ভরতা বেশি। জ্বালানি পাওয়া যাবে না-  এমন আশঙ্কা এবং দাম বাড়তে পারে- এমন উদ্বেগ থেকেই অনেক মানুষ আগে ভাগে জ্বালানি নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ফলে পাম্পগুলোতে ভিড় তৈরি হচ্ছে।'

অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, 'এতদিনেও কোনো পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি সংকট হয়নি। হয়তো কিছু জায়গায় অপেক্ষা করতে হয়েছে, কিন্তু সরবরাহ বন্ধ হয়নি। এখনো জ্বালানির দামও বাড়েনি। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের এই উদ্বেগ কমে যাবে।'

জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, 'সোমবার প্রায় ৩০ হাজার টন জ্বালানি নিয়ে দুটি জাহাজ আসার কথা ছিল। এর মধ্যে একটি পৌঁছেছে এবং আরেকটি আউটার অ্যাঙ্করেজে রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে সেটি থেকে জ্বালানি খালাস শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ১২ তারিখে আরও একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।'

ভারত থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়েও এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'ভারতের সঙ্গে একটি পাইপলাইন চুক্তির আওতায় প্রতি মাসে গড়ে ১৫ হাজার টন জ্বালানি আসার কথা রয়েছে। এর একটি বড় অংশ এরই মধ্যে এসেছে এবং বাকি অংশ ধারাবাহিক ভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে।'

তিনি বলেন, 'এই সরবরাহ চুক্তি প্রতি বছর নবায়ন হয় এবং বর্তমানে এর মেয়াদও রয়েছে। ফলে এ নিয়ে কোনো সংকট নেই।'