মধ্যপ্রাচ্যের সহিংস পরিস্থিতিতে দ্বিগুনের বেশি দামে দুই দেশ থেকে তিন কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে দুই কার্গো এবং যুক্তরাজ্য থেকে এক কার্গো এলএনজি আনা হবে। তিন কার্গো এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৫৪ কোটি ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার ২৮০ টাকা।
বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বৈঠকের নির্ধারিত অ্যাজেন্ডার বাইরে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে তিন কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ এর বিধি-১০৫(৩) (ক)-অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় স্পট মার্কেট থেকে এই এলএনজি আনা হবে। চলতি বছরের ৫-৬ এপ্রিল এক কার্গো, ৯-১০ এপ্রিল এক কার্গো এবং ১২-১৩ এপ্রিল আর এক কার্গো এলএনজি আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিন কার্গো এলএনজি’র মধ্যে যুক্তরাজ্যের টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে এক কার্গো এলএনজি ৯০৭ কোটি ৮৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩০৪ টাকা দিয়ে আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউ’র মূল্য ধরা হয়েছে ২১ দশমিক ৫৮ ডলার।
গত বছরের ০৯ ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যের এ প্রতিষ্ঠান থেকে এক কার্গো এলএনজি ৪৩৬ কোটি ৭ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫২ টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে সময় প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ধরা হয় ১০ দশমিক ৩৭ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ আগের থেকে দ্বিগুনের বেশি দামে এবার যুক্তরাজ্যের টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে।
শুধু যুক্তরাজ্যের এ প্রতিষ্ঠানটি থেকে নয়, দক্ষিণ কোরিয়া থেকেও এলএনজি আনতে দ্বিগুনের বেশি অর্থ খরচ হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পসকো ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন থেকে একটি লটে এক কার্গো এলএনজি কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৭৩ কোটি ৩৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৮৮ টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউ’র মূল্য ধরা হয়েছে ২০ দশমিক ৭৬ ডলার।
দক্ষিণ কোরিয়ার এই প্রতিষ্ঠান থেকেই আর এক কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই এক কার্গো এলএনজি’র মূল্য ধরা হয়েছে ৮৭৩ কোটি ৩৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৮৮ টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউর মূল্য ধরা হয়েছে ২০ দশমিক ৭৬ ডলার। অর্থাৎ দক্ষিণ কোরিয়া থেকেও এলএনজি আনতে গত ডিসেম্বরের তুলনায় দ্বিগুনের বেশি অর্থ খরচ হচ্ছে।
Tag:
আরো পড়ুন: