আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পেট্রোল, অকটেন এবং ডিজেলে আরোপিত রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় এখন থেকে মোটরযান ও পরিবহন খাতে জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে আর কোনো নির্দিষ্ট সীমা থাকবে না।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অপারেশন শাখার যুগ্মসচিব মণির হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন রোববার জারি করা হবে। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে মানুষের যাতায়াত সহজ ও নির্বিঘ্ন রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আপাতত দেশের জ্বালানি সরবরাহ ও বিক্রি আগের মতো স্বাভাবিকভাবে চলবে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপটে যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল তা এখন প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
গত ৬ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে ঘিরে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় দেশে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে সীমা আরোপ করা হয়েছিল। সে সময় আতঙ্কে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতা দেখা দেওয়ায় সরকার এই রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে।
রেশনিং ব্যবস্থার আওতায় মোটরসাইকেলের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লিটার জ্বালানি নির্ধারণ করা হয়েছিল। এসইউভি ও মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ ও স্থানীয় বাসের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য প্রতিদিন ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত সীমা নির্ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে রাইড-শেয়ারিং যানবাহনের জন্য দৈনিক সীমা ২ লিটার থেকে বাড়িয়ে ৫ লিটার করা হয় এবং সামগ্রিক রেশনিংয়ের মাত্রা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনা হয়েছিল।
সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে যানবাহন চালক, পরিবহন মালিক এবং পণ্য পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে ঈদকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা বাজারে অস্থিরতা তৈরি না হয় সে বিষয়েও সতর্ক নজর রাখা হবে।
আরো পড়ুন: