জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাই পেট্রোল পাম্পের মালিকসহ কেউ তেল মজুত করলে লাভবান হতে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়) জাহেদ উর রহমান।
বুধবার সচিবালয়ে সরকারের এক মাস নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের খুবই দুর্ভাগ্য, আমাদের জাতিরও দুর্ভাগ্য যে আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে একটা গ্লোবাল ক্রাইসিসে পড়েছি।’
তিনি বলেন, ‘ধনী দেশগুলো পর্যন্ত- এই যে ট্রাম্প যুদ্ধ থেকে সরে আসছে চিন্তা করছে বলা হচ্ছে কারণ তার সামনে মিড-টার্ম ইলেকশন আছে। তার আগে যদি তার দেশেও প্রচুর ইনফ্লেশন হয়ে যায় সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সো আমরা আসলে মূলত ওই সংকটে পড়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন সবার দায়িত্ব মানুষকে এটা বলার চেষ্টা করা- প্যানিক বায়িং এবং মজুত যেন তারা অতটা না করেন। আর হ্যাঁ, পাম্প পর্যায়ে হয়তো কেউ কেউ স্টোর করার চেষ্টা করছে। আমাদের সরকার সেগুলো একটু দেখার চিন্তা করছে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি পাম্প মালিকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- মজুত করার যদি প্রবণতা কারও থাকে, তারা মনে করছেন যে দাম যেকোনো মুহূর্তে বেড়ে যাবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন- জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না। সুতরাং জ্বালানি তেলের দাম যেহেতু বাড়ছে না, এই মজুত করে রাখার প্রবণতা আসলে তাদের জন্য খুব বেশি বেনিফিশিয়াল হবে না।’
জ্বালানি তেল নিয়ে সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রেশনিং কেন হয়েছে আপনারা নিশ্চয়ই বোঝেন। মানে ব্যাপারটা এ রকম একটু যদি এভাবে বলি যেকোনো একদিন সকালে সবাই গিয়ে যদি ব্যাংকে তার পুরো টাকা নিজের টাকা, আমি তুলে নিতে চাই- ওই ব্যাংক কলাপস করবে। কারণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত আছে এটার ভিত্তিতে যেসব লোক তার টাকা তুলে নিতে যাবে না। কত লোক কত টাকা তুলে নেয়, তার একটা হিসাব আছে, সেই বাকি টাকা তো রি-ইনভেস্ট করে। তাই তো? দিস ইজ ব্যাংকিং।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফুয়েলের ক্ষেত্রে একটা সরকার তার প্রতিদিন কি পরিমাণ জ্বালানি, কোন জ্বালানি কতটুকু রাখে তার একটা স্টোরেজ, তার একটা সাপ্লাই চেইন সে মেইনটেইন করে। কিন্তু ঘটনা যেটা হয়েছে এই যে প্যানিক বায়িংয়ের (আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনা) কথা বলছি- এখন এই প্যানিক বায়িং আমিও কি করতাম না? আমিও কি আমার চারপাশের মানুষকে প্যানিক বায়িং করতে দেখছি না?’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের খবরাখবর রাখছি, আমরা যে কেউ ধারণা করছি যে কিছু একটা ঘটে যেতে পারে, অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। সো শুধু ট্যাঙ্ক ফুল করছি না, ট্যাঙ্ক ফুল হওয়ার পর কি আমি সেখান থেকে কিছু মজুত করার চেষ্টা করছি?’
তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে যে পরিমাণ তেল দেওয়া হয়েছে কয়েক দিন যাওয়ার কথা ছিল স্বাভাবিক হিসেবে- কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে গেছে এগুলো। সো এটা আসলে ঠিক সরকারের মিস ম্যানেজমেন্টের চাইতে আমাদের এক ধরনের ভীতি এবং অসচেতনতা। আমি মানুষের এই প্যানিককে অসম্মান করছি না। বিশেষ করে আমি যদি বলি যারা বাইক রাইডার আছেন তাদের তো জীবন-জীবিকা এটার ওপরই ডিপেন্ড করে। সো এটা আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আমাদের যদি সবাই মিলে একসাথে আমরা কনসাস না হই আসলে এটা হবে না। এটার একটা অপশন অন্যদিকে হতে পারতো যে পথে আমাদের সরকার যায়নি।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা অভ্যন্তরীণ ভাবে তেলের মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারতাম। আমরা কিন্তু এখন অনেক বেশি মূল্যে তেল কিনছি। নতুন যে সাপ্লাই আসবে এগুলোর মূল্য অনেক বেশি হবে, কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত যেহেতু আমাদের অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটা ক্রাইসিস গেছে, আমাদের মানুষের বায়িং ক্যাপাসিটি ভালো না, এখন যদি ইনফ্লেশন অনেক বেড়ে যায়-তেলের মূল্য বাড়ালেই তো আসলে ইনফ্লেশন বেড়ে যায়- সো সেটায়ও যাইনি। সেই কারণে আমরা মনে করি যে মানুষকে একটু সচেতন হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে যেহেতু আমরা সবাই ঈদযাত্রা করেছি সে সময় যদি আমরা এ রকম তেলের আনলিমিটেড সাপ্লাইটা না রাখতাম, সেটা মানুষের জন্য সংকট তৈরি করতো। সেই কারণে ওই জিনিসটা (রেশনিং) তুলে নেওয়া হয়েছিল।
সরকার এখন স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কিনছে জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘কাতারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যে চুক্তি আছে, সম্ভাবনা আছে সব গ্যাস নাও পেতে পারি। সো আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু একটা সংকট বৈশ্বিক কারণে আমাদের ওপর এসে পড়তে পারে। আমরা এই ব্যাপারটা একটু জনগণকে বলতে চাই। যতটা সমন্বয়হীনতা আমরা মনে করছি আসলে মূলত সমন্বয়হীনতা খুব বেশি আছে সেটা মনে করি না। তারপরও কোথাও কোথাও যদি এই ধরনের সমন্বয়হীনতা থেকে থাকে আমরা সেটা ফাইন্ড আউট করবো এবং মানুষ যেন তার জেনুইন ইনফরমেশনগুলো পায়।’
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।
আরো পড়ুন: