বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলমান অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি মজুত আরও শক্তিশালী করতে জরুরি ভিত্তিতে ২ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ) মঙ্গলবার এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) এবং সরকার-টু-সরকার (জি২জি) উভয় ব্যবস্থার আওতায় একাধিক প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।
অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবীর ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটস থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) কেনা হবে। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন (বিএসপি জাপিন) থেকে জি২জি চুক্তির মাধ্যমে ৬০ হাজার মেট্রিক টন ০.৫ শতাংশ সালফারযুক্ত গ্যাস অয়েল আমদানি করা হবে।
এছাড়া ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি থেকে ৫০ পিপিএম সালফারযুক্ত ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তবে দুটি প্রস্তাব বিবেচনা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর মধ্যে কাজাখস্তানের এক্সনমোবিল কাজাখস্তান ইনকরপোরেটেড থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন এন৫৯০-১০ পিপিএম সালফার ডিজেল এবং আর্চার এনার্জি এলএলসি থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন ০.৫ শতাংশ সালফার গ্যাস অয়েল আমদানির পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি টেন্ডার প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতেই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এতে বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও সরবরাহ ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে বলে তারা মনে করছেন।
অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো এখন সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) কাছে পাঠানো হবে, যেখানে চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ ও চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হবে।
আরো পড়ুন: