যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি দেশের জ্বালানি সংগ্রহের ক্ষেত্রে নমনীয়তা সীমিত করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই পরিস্থিতি বিদ্যমান অর্থনৈতিক চাপে আরও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
মঙ্গলবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, চুক্তির কিছু শর্ত এমনভাবে নির্ধারিত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যকে সীমিত করে। পাশাপাশি কিছু অর্থনীতিকে “নন-মার্কেট” হিসেবে চিহ্নিত করার ফলে রাশিয়া বা চীনের মতো বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি জটিল হয়ে উঠতে পারে।
তার মতে, এই সীমাবদ্ধতার কারণে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশকে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বিশেষ ছাড় বা অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে যখন দেশটি প্রায় ৬ লাখ টন জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা করছে, তখন এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত ক্রমেই পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের কৌশলগত বিকল্পগুলো সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক ধরনের ‘ত্রিমুখী চাপের’ মুখে রয়েছে—বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি বৃদ্ধি, জ্বালানি আমদানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং বৈদেশিক লেনদেন মেটাতে ডলারের চাহিদা বাড়া।
তার হিসাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে বছরে প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং বহিঃখাতের ভারসাম্যকে দুর্বল করতে পারে।
এছাড়া ডলারের চাহিদা বাড়ার ফলে টাকার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
আসন্ন জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সীমিত রাজস্ব আহরণ, আর্থিক পরিসরের সংকীর্ণতা এবং কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে সরকার একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের সমন্বিত প্রয়াস জরুরি।
তিনি সতর্ক করেন, প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ না নিলে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
আরো পড়ুন: