বাংলাদেশ জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং মজুত আরও শক্তিশালী করতে বহুমুখী কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি একই সঙ্গে দেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নাকচ করে বলেছেন, বর্তমান মজুত চাহিদা পূরণে যথেষ্ট।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কিছু উৎস থেকে সরবরাহে প্রভাব পড়লেও বিকল্প উৎস খুঁজে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রাখতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
তার ভাষায়, সৌদি আরব, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হয়েছে, যাতে সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
তিনি জানান, বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতার আওতায় এপ্রিল মাসে একাধিক জ্বালানি চালান দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছন্দ করবে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাজারে জ্বালানি ঘাটতির যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তার একটি অংশ অতিরঞ্জিত। কিছু অসাধু গোষ্ঠী মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ ধরনের কার্যক্রম মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজনিত কিছু প্রক্রিয়াগত জটিলতা রয়েছে, যা সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরামর্শসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো যৌথভাবে কাজ করছে।
দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতে ঝুঁকি কমাতে বৈচিত্র্যময় উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর নীতিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ভারত-বাংলাদেশ ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাণিজ্য, চিকিৎসা ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছে ভারত।
লিবিয়া হয়ে অভিবাসন ইস্যুতে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈধ উপায়ে বিদেশে যাওয়া সম্ভব হলেও মানবপাচারকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ পথে মানুষকে পাঠিয়ে বিপদের মুখে ফেলছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আরো পড়ুন: