এপ্রিলে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত সরকারের

এপ্রিলে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ মার্চ, ২০২৬ ১৯:৫৪

বৈশ্বিক তেলের বাজারে চলমান অস্থিরতার মধ্যেও এপ্রিল মাসের জন্য জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাসভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকায় অপরিবর্তিত থাকবে।

মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামা করলেও বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়েনি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিদ্যমান মজুত এবং আমদানি পরিকল্পনা সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হচ্ছে।

তবে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি মূলত আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত ক্রয়ের ফল, বাস্তব ঘাটতির প্রতিফলন নয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন জ্বালানি মজুত রয়েছে, যার মধ্যে ডিজেলের অংশই সবচেয়ে বেশি। কৃষি, পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ডিজেলের গুরুত্ব থাকায় মজুত কাঠামোতেও এর প্রাধান্য দেখা যায়।

কর্তৃপক্ষ বলছে, জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখা বৃহত্তর কৌশলের অংশ, যার লক্ষ্য বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক দামের আকস্মিক প্রভাব থেকে ভোক্তাদের সুরক্ষা দেওয়া।

একইসঙ্গে জ্বালানি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দেশজুড়ে অভিযানে এক হাজারের বেশি মামলা দায়ের, জরিমানা এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানি বাড়ানো এবং বিতরণ ব্যবস্থায় তদারকি জোরদার করা হয়েছে, বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে বছরে মোট জ্বালানির চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টন, যার প্রায় তিন-চতুর্থাংশই ডিজেল। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এই জ্বালানির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা নীতিনির্ধারকদের অগ্রাধিকার।

কর্তৃপক্ষ ভোক্তাদের অপ্রয়োজনীয় মজুত না করার আহ্বান জানিয়েছে, সতর্ক করে বলা হয়েছে—অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তটি একটি সতর্ক নীতিগত অবস্থান, যেখানে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।