ইরানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা এবং যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না জানানোয় বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ব্যারেল প্রতি ৫ ডলারের বেশি বেড়েছে। একইসঙ্গে এশিয়াসহ বিশ্বের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরনের ধস নেমেছে।
বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। এদিন আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বা ৬ দশমিক ৩৩ ডলার বেড়ে ১০৭ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দাম ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বা ৫ দশমিক ২৮ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৪০ ডলারে পৌঁছেছে।
ট্রাম্পের ভাষণের আগে উভয় বেঞ্চমার্কের দামই এক ডলারের বেশি কমেছিল। কিন্তু পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তনে জ্বালানি সংকট কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ার উদীয়মান বাজারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো মূলত আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার সূচক (কসপি) ৪ দশমিক ২ শতাংশ পড়ে গেছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় ১৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ বাজেট পাসের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিন সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জ শুরুতে ভালো করলেও পরে ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। মালয়েশিয়ার সূচক কমেছে প্রায় এক শতাংশ।
এছাড়া, হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ১ দশমিক ১ শতাংশ এবং চীনের সাংহাই কম্পোজিট সূচক ০ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে, প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলোতে বড় দরপতন লক্ষ্য করা গেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কোনো দ্রুত সমাধান না হলে বিশ্ব বাজারের এই অস্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তবে কোনো সমঝোতা হলে বাজার আবার দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।
Tag:
আরো পড়ুন: