আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার বড় পরিসরে জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শনিবার বিকেলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভা কমিটির জরুরি বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক দুটি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ১৭ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হবে, যা অনুমোদন পেলে একই দিনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এই জরুরি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিবিএস ট্রেডিং হাউস থেকে সরাসরি প্রায় ১০ লাখ টন ডিজেল এবং ১ লাখ টন অকটেন আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া, আরও ১ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব রয়েছে ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি (সংযুক্ত আরব আমিরাত) থেকে এবং কাজাখস্তানের কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি থেকে ৫ লাখ টন ডিজেল আনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
এর আগে, গত ৩১ মার্চ সরকার ২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছিল। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে দেশের ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টন। প্রস্তাবিত ১৭ লাখ টনের মধ্যে প্রায় ১৬ লাখ টনই ডিজেল।
প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে মে ও জুন মাসে এসব জ্বালানি চালান দেশে পৌঁছাতে পারে। এরপর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পারফরম্যান্স গ্যারান্টি গ্রহণ করবে এবং ঋণপত্রের মাধ্যমে কার্যাদেশ জারি করবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, এই জরুরি বৈঠকের লক্ষ্য হলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, বর্তমানে অকটেনের মজুদ অন্তত তিন মাসের জন্য পর্যাপ্ত রয়েছে এবং এপ্রিল মাসের জন্য ডিজেলের সরবরাহও স্থিতিশীল আছে।
তবে বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা বিবেচনায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
আরো পড়ুন: