জ্বালানি চাপ কমাতে এআইআইবির অর্থায়ন, নতুন পরিকল্পনা সরকারের

জ্বালানি চাপ কমাতে এআইআইবির অর্থায়ন, নতুন পরিকল্পনা সরকারের
এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) একটি প্রতিনিধিদল শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:৫৫

চলমান জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে বাজেট সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি)। সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে তিনি এই তথ্য জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাজারের ওঠানামার কারণে দেশের জ্বালানি খাতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, এআইআইবির সহায়তা তা কিছুটা লাঘব করতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে সংস্থাটির আগ্রহ রয়েছে।

সরকার একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে জোর দিচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন খাতে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী বছরগুলোতে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সৌরশক্তি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও ব্যবসা পরিচালনায় বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী কিছু সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানের নির্দেশ দেন এবং বাকি বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব দেন।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সম্প্রতি বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু কলকারখানা পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা স্বল্পমেয়াদে কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি পুরোনো উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার সমন্বয়ে বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব বলে সরকার মনে করছে। তবে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ বা আসন্ন জাতীয় বাজেটের আকার নিয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ বর্তমান জ্বালানি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী।