বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (ইআরএল) অপরিশোধিত তেলের দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ বিঘ্নের কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধের ঝুঁকিতে পড়েছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের চালান না পৌঁছানোয় রিফাইনারির কার্যক্রমে চাপ তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ না এলে উৎপাদন স্থগিত করতে হতে পারে।
এই পরিস্থিতি এড়াতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে ১০ থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে এই চালান দেশে পৌঁছাতে পারে।
বিপিসির চেয়ারম্যান রেজওয়ানুর রহমান জানান, দ্রুত ঋণপত্র খোলা এবং জাহাজ ভাড়া করার কাজ চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চালান পৌঁছালে রিফাইনারির উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে সৌদি আরবে আটকে থাকা ‘নর্ডিক পলাক্স’ নামের একটি জাহাজ থেকেও অপরিশোধিত তেল আনার চেষ্টা চলছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জাহাজটি এখনো যাত্রা শুরু করতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, এতে প্রায় ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল রয়েছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে এই সরবরাহ বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এই রুটটি বাংলাদেশের তেল আমদানির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সর্বশেষ প্রায় ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেলের চালান ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশে পৌঁছায়। এরপর নির্ধারিত দুটি চালান আসতে ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। সাধারণত ইআরএল প্রতিদিন প্রায় ৪,১০০ থেকে ৪,২০০ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে থাকে। বর্তমানে মজুদ টিকিয়ে রাখতে উৎপাদন ধীরে ধীরে কমানো হয়েছে।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শোধনাগারের বার্ষিক পরিশোধন সক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ টন। এটি দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করে। উৎপাদন বন্ধ হলে বাংলাদেশকে আরও বেশি পরিমাণে ব্যয়বহুল পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হতে পারে, যা আর্থিক চাপ বাড়াবে।
ইআরএল সূত্র বলছে, বর্তমান মজুদ এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলতে পারে। তবে নির্ধারিত চালান বিলম্বিত হলে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখা ছাড়া বিকল্প নাও থাকতে পারে। যদিও রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে স্বল্পমেয়াদি বন্ধ থাকা অস্বাভাবিক নয়, তবুও বর্তমান পরিস্থিতি সরবরাহ সংকটের কারণে সৃষ্ট।
আরো পড়ুন: