মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান তার প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ থেকে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত থাকার পাশাপাশি তা সম্প্রসারিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইরানের পার্লামেন্টের জ্বালানি কমিশনের প্রধান মুসা আহমাদি জানান, খার্গ দ্বীপে সাম্প্রতিক পরিদর্শন ও বৈঠকের পর দেখা গেছে, তেল রপ্তানি বন্ধ না হয়ে বরং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আরও জোরদার হয়েছে। তিনি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএসএনএকে বলেন, চলমান সংঘাত সত্ত্বেও দেশের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।
পারস্য উপসাগরের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এখান থেকেই দেশটির বড় অংশের অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়।
এই পরিস্থিতি এমন এক সময় সামনে এলো, যখন আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত নিরসন ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করার বিষয়ে সমঝোতা না হলে খার্গ দ্বীপ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিতে ইতোমধ্যেই বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১৩ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপে সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করলেও তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন স্থল অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এই উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উভচর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ট্রিপোলির আগমনের পর। প্রায় ৩,৫০০ নৌসদস্য ও মেরিন বহনকারী এই জাহাজের উপস্থিতি অঞ্চলটিতে সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাতের মধ্যেও ইরানের তেল রপ্তানি সচল থাকা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকেই যাবে।
আরো পড়ুন: