বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের উদ্বেগের মাঝে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে কিছুটা স্বস্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা প্রায় ৫১ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল নিয়ে দুটি বিশাল জাহাজ এখন চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে জাহাজ দুটি বন্দরে পৌঁছানোর পর দ্রুততার সঙ্গে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দরের প্রশাসনিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আমদানিকৃত এই জ্বালানির মধ্যে একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েল এবং পরিবহণ খাতের জন্য জরুরি অকটেন। জাহাজ দুটির মধ্যে ‘সেন্ট্রাল স্টার’ বহন করে এনেছে ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল এবং ‘ইস্টার্ণ কুইন্স’ নামক জাহাজটি নিয়ে এসেছে ২৬ হাজার টন অকটেন। বুধবার বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করার পর বৃহস্পতিবার ভোরে জাহাজগুলো বহির্নোঙরে নোঙর করে।
বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম এই আমদানির গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। তিনি আরও জানান, আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে আরও পাঁচটি তেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যা দেশের জ্বালানি মজুতকে আরও শক্তিশালী করবে।
এর আগে গত শুক্রবার সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ‘ইয়ান জিং হে’ নামে একটি জাহাজ বন্দরের ডলফিন জেটিতে অবস্থান নিয়েছিল। পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস অয়েল নিয়ে আসা অপর একটি জাহাজও পাইপলাইনে রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে মোট ৩৩টি জ্বালানি পণ্যবাহী জাহাজ বাংলাদেশে এসেছে। এর মধ্যে ১৫টি তেলবাহী, ৮টি এলএনজি এবং ৯টি এলপিজি বহনকারী জাহাজ ছিল।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ধারাবাহিকভাবে এই জাহাজগুলোর আগমন দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে রমজান পরবর্তী সময়ে কলকারখানা ও কৃষি সেচ কাজে জ্বালানির বাড়তি চাহিদা মেটাতে এই দ্রুত সরবরাহ প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তদারকি করছে যাতে বন্দরে জাহাজ ভিড়লে তা দ্রুত খালাস করে জাতীয় গ্রিডে বা বিপণন পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া যায়।
আরো পড়ুন: