জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে আসছে স্মার্ট কার্ড ও কিউআর সিস্টেম

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে আসছে স্মার্ট কার্ড ও কিউআর সিস্টেম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:২১

দেশের জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকটের পথ বন্ধ করতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল, ২০২৬) রাজধানী ঢাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ‘ফুয়েল পাস’ নামক একটি কিউআর  কোড ভিত্তিক মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই ডিজিটাল উদ্যোগের লক্ষ্য হলো জ্বালানি তেল বিতরণ প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন এবং মজুতদারদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা।

সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র এবং যুগ্ম সচিব (অপারেশনস) মনির হোসেন চৌধুরী এই নতুন উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। প্রাথমিক পর্যায়ে আসাদ গেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন এবং তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে এই পাইলট প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে। সরকারি হিসাব মতে, অ্যাপটি উদ্বোধনের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ১০ হাজারেরও বেশি গ্রাহক সফলভাবে নিবন্ধিত হয়েছেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিপুল আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায়।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক বাস্তবায়িত এই ব্যবস্থাটি সরাসরি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিটি যানবাহনের নিবন্ধনের বিপরীতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি বরাদ্দ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রতিটি ব্যবহারকারী একটি অনন্য কিউআর কোড পাবেন, যা যাচাই করার মাধ্যমেই কেবল পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করা যাবে। এতে করে একই যানবাহন একাধিকবার তেল নিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার যে পুরনো সংস্কৃতি ছিল, তা চিরতরে বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফিলিং স্টেশনগুলোর অপারেটররা প্রতিটি লেনদেনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাপে আপলোড করবেন, ফলে সরকার একটি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে সারা দেশের তেলের মজুত ও চাহিদার প্রকৃত চিত্র পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। যদিও প্রথম ধাপে কেবল মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এটি চালু হয়েছে, তবে এর সাফল্য সাপেক্ষে খুব শীঘ্রই সব ধরনের যানবাহনের জন্য এটি সারা দেশে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। স্মার্টফোন নেই এমন গ্রাহকদের সুবিধার্থে একটি ওয়েব পোর্টালও চালু করা হয়েছে, যেখান থেকে কিউআর কোড প্রিন্ট করে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ডাটা-চালিত পদ্ধতিটি ভবিষ্যতে জ্বালানি আমদানি ও ভর্তুকি সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের এই সময়ে সীমিত সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ফ্রেমওয়ার্কের একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।