বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি পায়নি বাংলাদেশের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। শুক্রবার (১০ এপ্রিল, ২০২৬) সকালে ইরানি কর্তৃপক্ষ জাহাজটিকে এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। এর ফলে ৩১ জন ক্রু এবং বিপুল পরিমাণ পণ্য নিয়ে জাহাজটি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকর বহির্নোঙরে আটকা পড়ে আছে।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক শুক্রবার বিকেলে গণমাধ্যমকে এই সংকটের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জাহাজটি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর কাছে অনলাইনে ট্রানজিট অনুমতির জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে সেই আবেদন নাকচ করে দেয় তেহরান। বর্তমানে জাহাজটি প্রণালী থেকে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।
পণ্যবাহী এই জাহাজটি গত ৪০ দিন ধরে পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছিল। চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক মনে হওয়ায় জাহাজটি সৌদি আরবের রাস আল-খায়ের বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রায় ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ করতে না পারায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে সম্পন্ন হয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই রুটটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও সম্প্রতি একটি যুদ্ধবিরতির খবর পাওয়া গিয়েছিল, তবে বাংলাদেশি জাহাজকে প্রবেশাধিকার না দেওয়ার ঘটনাটি সেই সমঝোতার স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
বিএসসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজ ও ক্রু-সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। আইনি ও প্রশাসনিক সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেও কেন এই অনুমতি মিলল না, তা খতিয়ে দেখতে এবং দ্রুত জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। আপাতত পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত ‘বাংলার জয়যাত্রা’ দুবাইয়ের জলসীমায় অবস্থান করবে।
আরো পড়ুন: